পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: বয়কটের বাজারে সাহস করে ঢুকে পড়ল নরম পানীয় ব্র্যান্ড পামির কোলা। ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের বর্বরতম আক্রমণ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। বহু দেশে মুসলিমদের সঙ্গে অমুসলিমরাও ইসরাইলি পণ্য কিনতে চাইছেন না। বয়কটের তালিকায় থাকা কোকাকোলা ও পেপসির শূন্যস্থান পূরণ করতে নেমে পড়েছে পামির কোলা।

তবে পামির কোলার জন্ম কিন্তু কোনও সমৃদ্ধ সুপার পাওয়ারদের দেশে নয় অনুন্নত দেশ আফগানিস্তানে। হেরাতের এই ছোট কোম্পানি হঠাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যমণি হতে চলেছে। শুধু এই কারণে যে দৈত্যাকারের বিশাল কোম্পানি কোকা কোলা ও পেপসি কোলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে প্রথম পর্বেই শুধু সফল নয় অসাধারণ সফল।

পামির কোলার চাহিদা তুঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ও আরব দেশগুলিতে রমযানে পামির কোলার চাহিদা সর্বত্রই। বেদানার জুস দিয়ে তৈরি ও কেমিক্যাল বর্জিত এই পানীয়র চাহিদা দ্রুত বেড়ে  চলেছে। যদিও এই কোম্পানি ইতিপূর্বে ৪০টি ব্র্যান্ডের জুস তৈরি করেছে কিন্তু রমযানে চাহিদা পামির কোলার, বেদানা ও লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

আফগানিস্তানেই ইতিমধ্যে ৩৪টি শাখা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য। আগে বিস্কুট কেক, নিমকিন তৈরি করছিল সেই  সঙ্গে ছিল বেদানা, লেবু ও আমের জুস। কিন্তু এই বয়কটের সুযোগে এভাবে বাজার ধরে নেওয়ার কোলাহল আফগানিস্তানে, হেরাত প্রদেশে, ডালিম বা বেদানার ফলন বেশি।

অন্যান্য জেলাতেও বেদানার চাষ ছিল, কিন্তু ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু এবার বিদেশ থেকে ক্রমাগত অর্ডার আসতে থাকায় আশায় বুক বাঁধছেন ফলের চাষিরা। পামির কোলার মালিক মুনাওয়ার শাহ’কে সঙ্গে দিতে তৈরি হচ্ছেন অন্যান্য ধনী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। সকলের লক্ষ বাজার বিস্তার করা।

হেরাতের উলামা কাউন্সিলও এই কোম্পানির জন্য আশায় বুক বাঁধছে। কাউন্সিলের লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ মদ, মাদক, অ্যালকোহলের ভগ্নাংশ কিংবা শূকরের চর্বির কোনও উপাদান যেন খাদ্য, পানীয়ে ব্যবহার না হয়। সেই নির্দেশ মেনেই এতদিন ব্যবসা চলছিল, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে পামির কোলার নাম ছড়িয়ে পড়তেই মুসলিম ব্যবসায়ীরাও হেরাতে ছুটে আসছেন ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য।

এই পানীয়কে কেন্দ্র করেই হেরাত তথা আফগানিস্তানে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ইহুদি কোম্পানিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কতটা এঁটে উঠবে, সেটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

এর আগেও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া  ও তুরস্কের কোম্পানি প্রতিযোগিতায় নেমেছিল, তবে সুবিধা করতে পারেনি। তবে পামির কোলা নিয়ে নতুন উন্মাদনা দেখে অনেকে মনে করছেন আফগানিস্তান হারিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটোবাহিনীকে। তাই আফগান কোম্পানিও লড়াই দেবে বাজারে টিকে থাকার জন্য। পামির কোম্পানি ইতিমধ্যে তাদের পানীয়কে ফিলিস্তিনের জন্য উৎসর্গ ঘোষণা করে একধাপ এগিয়ে রয়েছে। আর ইতিমধ্যে অর্ডার আসতে শুরু হয়েছে আমেরিকা, ইউরোপ থেকেও।