ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের পথে এবার পশুদের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী উটের জন্য চালু হতে চলেছে ‘পাসপোর্ট’। সৌদি সরকারের এই অভিনব সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। এর ফলে সরকারকে লাখ লাখ উটের জন্য আলাদা পাসপোর্ট ইস্যু করতে হবে। সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, এই নতুন নথির নাম হবে ‘ক্যামেল পাসপোর্ট’ বা ‘উট পাসপোর্ট’।

এর মূল উদ্দেশ্য—দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উটের বাজারের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি পশুপালন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন সৌদি আরবের পরিবেশ, প্রাণী ও কৃষি বিভাগের উপমন্ত্রী মনসুর আল-মুসাইতি। আধুনিক মাইক্রোচিপ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি উটের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পাসপোর্টে থাকবে উটের নাম, নম্বর, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, জাত, রং, প্রজনন সক্ষমতা, এমনকি ছবিও। পাশাপাশি নথিভুক্ত থাকবে উটের মালিকের যাবতীয় তথ্য।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই পাসপোর্টে উটের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য, যেমন—টিকাকরণ, রোগ-ইতিহাস ও চিকিৎসার বিবরণ সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে উটের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য উট প্রজনন শিল্পকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক করা, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারেও সৌদি উট শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবে ২২ লক্ষেরও বেশি উট রয়েছে। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাণী-নথিভুক্তকরণ কর্মসূচি।