লোকসভায় প্রস্তাবিত বিল আটকে গিয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের সামনে সংখ্যার অঙ্কে পিছিয়ে পড়ে বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। আর এই ঘটনাতেই নতুন উদ্দীপনা ফিরেছে বিরোধী শিবিরে। শনিবার সংসদ ভবনে বিরোধী জোটের বৈঠকে সেই উচ্ছ্বাসই ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিরোধীদের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রথমেই প্রশ্ন তোলেন, “এত চুপচাপ কেন?” এরপরই যেন জমে ওঠে পরিবেশ।

তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়েন বলে ওঠেন, “লেটস সেলিব্রেট!” কারণ, শুক্রবার লোকসভায় ২৩০ আসনের জোরে বিরোধীরা যে ঐক্য দেখিয়েছে, তা মোদি সরকারের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী জোটের ২২টি দলের নেতারা সংসদ ভবনের বিরোধী দলনেতার ঘরে একত্রিত হয়ে এই সাফল্য উদযাপন করেন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খর্গের ঘরে মিষ্টি, চা ও বিস্কুটের মধ্য দিয়ে চলে অনানুষ্ঠানিক উদযাপন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দিনেও বিরোধী ঐক্য আরও মজবুত করা হবে এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে একজোট লড়াই জারি থাকবে।

এই সাফল্যের পরে বিরোধীদের লক্ষ্য এখন নির্বাচন কমিশনকেও চাপে রাখা।

সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে নতুন করে নোটিস আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। এই উদ্যোগে প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সুপ্রিয়া সোলে, সঞ্জয় রাউত সহ একাধিক বিরোধী নেতা। তাঁদের মতে, ডিলিমিটেশন বিল আটকানো কেবল শুরু। আগামী পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপিকে আরও বড় ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে মহিলা বিরোধী তকমা দেওয়ার চেষ্টারও পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “আমরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী নই। কিন্তু সরকার যে বিল আনছে, সেটি আসলে ডিলিমিটেশন বিল। ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে চাইলে ৫৪৩ আসনেই তা এখনই করা যায়।”
অন্যদিকে, রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকের মতো দল নারীশক্তির ক্ষমতায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভাষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাব মোদি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম সংসদে সংখ্যার জোরে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই কারণেই বিরোধী শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার, এই ঐক্যের প্রভাব আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে কতটা পড়ে।