আবদুল ওদুদঃ পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম রাজ্যের সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সমস্ত রকম কাজকর্ম করে। রাজ্য সরকারের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হলেন শাকিল আহমেদ। গত ২ জানুয়ারি সল্টলেকের অম্বর ভবনে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন ১৯৯২ ব্যাচের এই দক্ষ অফিসার। গত ৩০ ডিসেম্বর মৃগাঙ্ক বিশ্বাস অবসর নেওয়ায় সে জায়গায় এলেন শাকিল আহমেদ।
আরও পড়ুন:
শাকিল আহমেদ পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা এডুকেশন বিভাগ বা এমএএমইর স্পেশাল সেক্রেটারিও রয়েছে। সাকিল আহমেদ ২০২২ সালে মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসেস (এক্সিউকিউটিভ) অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকেই সেই পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন এই দুঁদে অফিসার।
আরও পড়ুন:
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে নানা গুরুত্বপূর্ণপদ দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন শাকিল আহমেদ।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। আজও সেই জেলার মানুষ তাঁকে স্মরণ করেন। পূর্ব বর্ধমানের কালনা ব্লকে ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। উত্তর দিনাজপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে জেলার উন্নয়ন মূলক পরিকল্পনার নানা দায়িত্ব সামলান। রাজ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, প্রকল্প কর্মকর্তা, উন্নয়ন প্রকল্প, জেলা পরিষদের সচিব সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সাফল্য রয়েছে তাঁর। ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের জিএম অর্থাৎ জেনারেল ম্যানেজার হিসাবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ওই সময় সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে কর্পোরেশনের উন্নয়ন মূলক এবং জরিপ পরিচালনার কাজ করেন। পরে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে সুগম করেছিলেন।আরও পড়ুন:
২০০৭ সালে ক্যানিং-এর মহকুমা শাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মহকুমা শাসক থাকা কালীন মুরগীর মহামারি ব্লার্ড ফ্লু দেখা দেয়। সেই সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সেই আতঙ্ক থেকে সাধারণ মানুষকে বের করে আনতে খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে ছিলেন। এর পরই তাঁকে বদলি করে ভারত সরকারের সংস্কৃত মন্ত্রকের অধীনে থাকা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য সচিব ও কিউরেটর পদের দায়িত্বেও ছিলেন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওই সময়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সেমিনারেরû আয়োজন করেন।
সেই সব অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ গ্রহণ করেন। অক্সফোর্ড সাহিত্য উৎসব, কলকাতা সাহিত্যসভা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে থাকা কালীন মেসিডোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সেক্রেটারি অফ স্টেট, ইউএসএ মিসেস হিলারি ক্লিনটন, থাইল্যান্ডের রাজ কুমারী সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয় এই অফিসারের। ওই সময়ে রাজ্যপাল, বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী, রাজ্য-কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সফরসঙ্গীও হয়েছিলেন।আরও পড়ুন:
২০১৫ মে মাসে সং বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের যুগ্ম সচিব পদে বদলি করা হয় তাঁকে। স্বল্পº সময়ের জন্য বেঙ্গল ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব সামলান শাকিল আহমেদ। ২০১৯ সাল থেকে এমএএমই ডিপার্টমেন্টে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ পালন করে চলেছেন এই অফিসার। তাঁর মুকুটে আরও একটি পালক সংযোজিত হয় নতুন বছরেই সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। স্বল্পভাষী এই দুঁদে অফিসার সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ভালোবাসেন। আগামী দিনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।