পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ভয়াল প্রকৃতির রোষের মুখে শৈলশহর সিকিম। বিপর্যস্ত পাহাড়ি রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নিখোঁজ শতাধিক। মঙ্গলবার কাকভোরে আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামে রাজ্যের লোনাক হ্রদে। লেক ফাটিয়ে হড়পা বান এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় লোকালয়।
রুদ্ররূপ ধারণ করে আপাত শান্ত তিস্তা।  ছিন্নভিন্ন করে ১০ নং জাতীয় সড়ক সহ ১১ টা সেতু। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত শৈলশহর। এই পরিস্থিতিতে বানভাসি সিকিমকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন তিনি।

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, বন্যা-বিধ্বস্ত সিকিমে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী খাতে আগাম ৪৪.৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া কেন্দ্রের তরফে সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিন আরও জানানো হয়েছে, সিকিমের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানোর জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেই কমিটির সদস্যরা শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করবেন। তারপর তাঁদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই আরও কেন্দ্রীয় সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হিমবাহ সৃষ্ট দক্ষিণ লোনক হ্রদ নিয়ে গত ১০ বছর ধরে মিলছিল অশনি সঙ্কেত। দিয়েছিল সতর্কবার্তাও। বিপদ এড়াতে কী করতে হবে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনকে। এমনকী গত ১৭-২৮ সেপ্টেম্বর, মাত্র ১১ দিনে হ্রদটি যখন আরও প্রায় ৬ হেক্টর বিস্তৃত হয়েছিল, তখনই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কর্ণপাত করেনি কেন্দ্রাসিন সরকার। চালানো হয়নি সঠিক নজরদারি এমনটাই সূত্রের খবর।