পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পড়াশোনার চাপ? প্রতিযোগিতায় টিকে না থাকতে পারার ভয়? নাকি উচ্চাশা ! ঠিক কোন কারণে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে কোটার পড়ুয়ারা?  রাজস্থানের কোটাতে ফের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু ।

জানা গেছে, নিট প্রবেশিকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই পড়ুয়া।
নাম মুহাম্মদ তানবীর। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জের বাসিন্দা। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাবা ও বোনের সঙ্গে কোটার ভাড়াবাড়িতে  থাকতেন। তাঁর বাবা কোটার একটি  কোচিং সেন্টারে পড়ান। বৃহস্পতিবার  রাতে ওই বাড়ি থেকে পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আত্মহত্যার নেপথ্যে কোচিংয়ের অত্যাধিক চাপ বলেই অনুমান পুলিশের।
এই নিয়ে গত ৮ মাসে ২৬ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করল কোটায়। একের পর এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বাড়ছে পড়ুয়ামহলে। অথচ নিরুত্তাপ স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডাক্তারি প্রবেশিকার কোচিং সেন্টারগুলি।

চম্বল নদীর ধারে গড়ে ওঠা শহর কোটা পড়ুয়াদের বিচরণস্থল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য পেতে ইদানীং কোটার বিকল্প নেই, অন্তত এমনটাই মনে করেন বহু অভিভাবক। তাই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় ছেলেমেয়েকে প্রতি বছর কোটায় পড়তে পাঠান বহু মা-বাবা।
সেখানে অসংখ্য কোচিং সেন্টারে উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে প্রশিক্ষণ নেন পড়ুয়ারা। যদিও প্রদীপের তলার অন্ধকারের মতো চলতি বছর শুধুমাত্র কোটায় ২৬ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হল অস্বাভাবিক ভাবে। একের পর এক পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনা রীতিমতো চিন্তায় রেখেছে প্রশাসনকে।

উল্লেখ্য, কোটার কোচিং সেন্টারগুলির কথা মাথায় রেখে বিশেষ আইন আনার কথা ভাবছে রাজস্থান সরকার। পাশাপাশি কোচিং সেন্টারে ভরতি হওয়ার আগেই একটি প্রবেশিকা পরীক্ষার কথাও ভাবা হচ্ছে। ওই পরীক্ষায় পরখ করা হবে, নির্দিষ্ট ছাত্রটি আদৌ পরবর্তী কঠিন পরীক্ষার জন্য মানসিকভাবে তৈরি কিনা।