পারিজাত মোল্লা: শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি। এই বছর আর শুনানিই হবে না। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ফের ডিএ মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট । এই নিয়ে দশম বারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছল। শুক্রবার সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং সঞ্জয় করোলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, -' ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে'।
আরও পড়ুন:
ডিএ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার । গত ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলা রুজু হয়।
প্রথম শুনানি হয় ২৮ নভেম্বর। রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, পরবর্তী শুনানি ৫ ডিসেম্বর। ওই দিনের মধ্যেই মামলা শেষ হবে। পরে রাজ্য আইনজীবী বদল করে। মুকুল রোহতাগির বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিষেক মনু সিঙঘভিকে। এর পর থেকেই একের পর এক তারিখ দেওয়া হয়েছে। নানা কারণে প্রতিবারই শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে।আরও পড়ুন:
গত ১৪ জুলাই নবম বার ডিএ মামলার হেয়ারিং পিছোয়। সেই সময় ৩ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এদিন মামলাটি উঠলে ফের শুনানি পিছিয়ে যায়। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, -'বারে বারেই শুনানি পিছোচ্ছে। তাই যে কোনও একদিন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক'।আইনজীবী পিএস পাটোয়ালি লড়াই করছেন বিজেপির কর্মচারী সংগঠনের তরফে।
আরও পড়ুন:
এদিন কোর্টে তিনি জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে, ফলে এভাবে শুনানি যদি বারে বারেই পিছয় তাহলে ঘোর সমস্যা হবে।সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং সঞ্জয় করলের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় যে, -'আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিএ মামলার শুনানি হবে'।
২০২২ সালের ২০ মে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ৩১ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।আরও পড়ুন:
সেই নির্দেশকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে নবান্ন। রাজ্যের যুক্তি, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে ডিএ দিতে হলে প্রায় ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বর্তমানে বহন করা অসম্ভব। ৩১ শতাংশ হারে ডিএ দিতে গেলে রাজ্য সরকারের অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো জারি রাখা সম্ভব নয়।২০২২ সালের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলা দায়ের হয়। প্রথম শুনানি হয় ২৮ নভেম্বর। ৫ ডিসেম্বরেই মামলা শেষ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই রাজ্যের আইনজীবী বদল হয়। মুকুল রোহতগির জায়গায় ডিএ মামলায় রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙঘভি। এরপরই নানা কারণে ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে।