পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি অতি সুকৌশলে প্রবীণ মারাঠা নেতা অশোক চ্যাবনকে নিয়ে এসেছে, আর বিজেপির এই চালে রাতের ঘুম কেড়েছে মহারাষ্রে্রর মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সহ উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। বলা যেতে পারে, আবাসন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে নিজের গদি খোয়াতে হয়েছিল মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যাবনকে। সেই অশোকই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মারাঠাভূমে একনাথ শিন্ডের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। চ্যাবন একজন বিতর্কিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও, মারাঠওয়াড়ার কিছু অংশে তার ঘাঁটি রয়েছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তার সমর্থকও রয়েছে। মারাঠওয়াড়ায় এখনও প্রবেশ করতে না পারা বিজেপি এখন এই চ্যাবনকে তুরুপের তাস করে নিয়ে আসতে চাইছে। চ্যাবনের গুরুত্ব এই যে তিনি রাজ্যে কংগ্রেসের অন্যতম কৌশলী ছিলেন রাজনৈতিক কূটনীতিতেও তিনি ওয়াকিফহাল।

বিজেপি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মারাঠা নেতাদের সংগ্রহ করেছে। যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নারায়ণ রানের কথাই ধরা যাক। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ। অন্যদিকে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রফুল্ল প্যাটেলের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে। মিলিন্দ দেওরা এবং প্যাটেল সরকারে বিজেপির মিত্রদের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিল যদিও তাদের পদে বেশ কয়েকজন উচ্চ পদে যাওয়ার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। অপরদিকে এনডিএ ও ইন্ডিয়া-দুই শিবিরেই এখন আসন সমঝোতা নিয়ে ঘনঘন বৈঠক চলছে। কেউই কাউকে আসন ছাড়তে রাজি নয়।

এই যেমন ইন্ডিয়া জোটের দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে জট এখনও কাটল না। মোটের ওপর ঠিক হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের তিন দল-কংগ্রেস, এনসিপি (শরদ পাওয়ার), শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) কতগুলি করে আসনে লড়বে।

কিন্তু কিছুতেই বিশেষ কয়েকটা আসন নিয়ে জট ছাড়ছে না। সবচেয়ে বড় জোট মূলত তিনটি জায়গায়-১) মুম্বইয়ের চারটি লোকসভা আসন, ২) গতবার যেখানে শিবসেনা ও কংগ্রেস বা এনসিপি-র মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছিল, ৩) বিজেপি যেখানে বিরোধী ভোট এক হলে হারতে পারে। এর মধ্যে মুম্বইয়ের চারটি লোকসভা আসনেই লড়তে চান উদ্ধব ঠাকরে। বালা সাহেব ঠাকরের জাদু মুম্বইতে এখনও আছে। ২০১৯ লোকসভায় বিজেপিকে বেশি আসনে ছেড়ে দিয়েছিল জোট সঙ্গী শিবসেনা।

তখনও উদ্ধব বনাম একনাথ শিন্ডের মধ্যে বিবাদ দল দু টুকরো হয়ে যায়নি। এদিকে রাজনীতিতে বালা সাহেব ঠাকরের আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছে উদ্ধব। কট্টর হিন্দুত্ববাদ ও মারাঠাদের উন্নয়নই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ধ্যান-ধর্ম ছিল বালা সাহেব ঠাকরের। শুধু মহারাষ্ট্রই নয়, গোটা দেশের কাছে বালাসাহেব ঠাকরের ভাবমূর্তি ছিল অত্যন্ত গুরুগম্ভীর।

কিন্তু বাবার মতো হননি ছেলে উদ্ধব, তিনি সেই ভাবমূর্তি ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে রাজনীতিতে বাবার প্রতি মারাঠাবাসীর সেই আবেগকেই উদ্ধবের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ইন্ডিয়া জোট নয়, বিজেপিকেও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অজিত পাওয়ার, একনাথ শিন্ডেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। মোদি-শাহ-রা মহারাষ্ট্রে অন্তত ৩৫টি আসনে লড়তে চাইছেন। কিন্তু অজিত পাওয়ার, একনাথ শিন্ডেরা চাইছেন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যত বেশি সম্ভব আসনে লড়তে। মোটের উপর মারাঠাভূমে স্বস্তিতে নেই কোনও রাজনৈতিক দলই।