ইরান ও লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলের নেতিভত শহরে দেখা দিয়েছে এক নতুন আতঙ্ক। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়, এবার হাজার হাজার মৌমাছির বিশাল এক ঝাঁক ঢেকে ফেলেছে শহরের আকাশ। এই অস্বাভাবিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীও বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছে।

গত বুধবার নেতিভত শহরের একটি শপিং সেন্টারকে ঘিরে মৌমাছির এই বিশাল ঝাঁক অবস্থান নেয়।

মুহূর্তের মধ্যেই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার বারান্দা ও রাস্তাঘাট মৌমাছির দখলে চলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে থাকার জরুরি নির্দেশ দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মৌমাছির ঘন স্তরে আকাশ প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে।
মৌমাছির এই আক্রমণ শুধু জনজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি প্রভাব ফেলেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপরও।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে মৌমাছির ঝাঁক ঢুকে পড়ায় এবং ডানায় আটকে থাকায় বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন সতর্কাবস্থার মধ্যে এমন ঘটনা সামরিক কর্মকর্তাদেরও উদ্বেগে ফেলেছে।

ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেক নেটিজেন একে বাইবেলে বর্ণিত ‘দশটি প্লেগ’ বা ‘ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন।
কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্য পরিবেশে গাছপালা কমে যাওয়ায় মৌমাছিরা শহরের দালান বা দেয়ালের ফাটলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে মৌমাছিরা তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল বদলে ফেলছে। গবেষকদের মতে, এটি বিরল হলেও একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এই ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ ইসরায়েলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কীটতত্ত্ববিদ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।