পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: খাতায় কলমে ১০০ জনের নাম থাকলেও হস্টেলে রয়েছে ১১ জন ছাত্রী, গায়েব ৮৯ জন! অথচ অনুপস্থিত ছাত্রীদের নামের ভুয়ো তালিকা দেখিয়েই সরকারি সুবিধা আত্মসাতের অভিযোগ খোদ ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধেই। উত্তরপ্রদেশের কস্তুরবা গান্ধি আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের ঘটনা।

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক (বিএসএ) এবং জেলা সমন্বয়কারী (বালিকা শিক্ষা) জেলাশাসক নেহা শর্মা ছাত্রী আবাসনে যান।

তখনই এই মারাত্মক ঘটনা সামনে আসে। জানা গেছে, খাতায় কলমে ১০০ জনের নাম থাকলেও ম্যানুয়াল রেজিস্টারে ৮৯ জন ছাত্রীর নাম নেই। নথিভুক্ত রয়েছে ১১ জন ছাত্রীর নাম। অথচ প্রেরণা পোর্টালে শুধু ওই অনুপস্থিত ছাত্রীদের নামে ভুয়ো তালিকা নথিভুক্ত করে সরকারি সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

জেলা সমন্বয়কারী (বালিকা শিক্ষা) বলেছেন যে, স্কুল ওয়ার্ডেন, শিক্ষক, নিরাপত্তারক্ষী এবং প্রান্তীয় রক্ষা দলের (পিআরডি) জওয়ান বালিকা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য দায়বদ্ধ। কিন্তু এখানে দায়িত্ব পালন করা হয়নি, যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ওয়ার্ডেন সরিতা সিং, শিক্ষক সুষম পাল, চৌকিদার বিষ্ণু প্রতাপ সিং এবং পিআরডি জওয়ান দিলীপ কুমার মিশ্রের নামে পরশপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হস্টেল কর্তৃপক্ষকে তিরস্কার করে অবহেলার জন্য দায়ী করেছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ১৭ আগস্টের পরে রেজিস্টারে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রীদের নাম রেজিস্টারে নথিভুক্ত নেই। কিন্তু ১৭ আগস্ট প্রেরণা পোর্টালে ওয়ার্ডেন দ্বারা জাল উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল ওই ছাত্রীদের, সেই অনুযায়ী সেই পরিমাণ সরকারি সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। পরিদর্শনের সময় ছাত্রীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। অভিভাবকরা জানান, ১৯ আগস্টের মধ্যেই ছাত্রীরা বাড়ি পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়েছিল। ওয়ার্ডেন জানান, আবাসিক ছাত্রীরা ২১ আগস্ট বাড়ি চলে যায়। ছাত্রীরা তাদের নিজের বাড়িতে পৌঁছে গেছে।

জেলা কো-অর্ডিনেটর হস্টেল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ছাত্রীবাস থেকে কোনও ছাত্রী বের হলেই তার নাম রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে হবে।