মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। ইরান-এর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘাঁটির অবস্থা এখন এতটাই নাজুক যে, এগুলো কার্যত ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়ছে এবং উল্টো মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
এর আগে, গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটনের আরব সেন্টার-এর এক সম্মেলনে বিশ্লেষক মার্ক লিঞ্চ বলেন, গত এক মাসে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত হেনেছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।
এদিকে বাহরাইন, সউদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ওমান এই ছয় দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে পেন্টাগন এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো। এমনকি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোন ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারেও আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে হামলায় ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত দুর্বলতা গোপন রাখতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মার্ক লিঞ্চ আরও জানান, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনার এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখানে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু ঘাঁটিগুলোর সক্ষমতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং পুরো অঞ্চলের মার্কিন শক্তির ভারসাম্যেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।