সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি E-3 Sentry নজরদারি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই উড়োজাহাজটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আগাম সতর্কতা ও আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
‘এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ বা AWACS প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বিমান শত শত কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে পারে। শুধু শনাক্তই নয়, এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মিত্রবাহিনীকে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে এবং আকাশযুদ্ধ পরিচালনায় নির্দেশনা দেয়।
শুক্রবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি KC-135 Stratotanker রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধরনের বিমান মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহ করে, যা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অত্যন্ত জরুরি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ AWACS-এর মতো উচ্চমূল্যের নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে আকাশপথে তথ্য সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।
এই ধরনের E-3 Sentry উড়োজাহাজকে অনেক সময় “আইজ ইন দ্য স্কাই” বলা হয়।
কারণ, বিমানের উপরে থাকা বড় রাডার ডোমের মাধ্যমে এটি দূর থেকে আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। শত্রু বিমানের গতিপথ নির্ণয়, সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা এবং মিত্রবাহিনীকে সতর্কবার্তা দেওয়া—সবই এই এক প্ল্যাটফর্ম থেকে করা সম্ভব।
এছাড়া এই বিমান যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবেও কাজ করে। অর্থাৎ, আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানগুলিকে নির্দেশনা দেওয়া, সমুদ্রের জাহাজের গতিবিধি নজরদারি করা এবং স্থলবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা—সবকিছুই এর মাধ্যমে করা যায়। সংগৃহীত তথ্য অত্যন্ত দ্রুত অন্যান্য সামরিক ইউনিটের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা আধুনিক যুদ্ধে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে NATO-সহ বিভিন্ন সামরিক জোট ও দেশ এই ধরনের AWACS উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আকাশপথের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করছে।