ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তেহরান, তেল আবিব ও উপসাগরীয় বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বাসভবন লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি এই সংঘাতে যুক্ত হয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযান দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা “শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত” প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এতে করে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংঘর্ষের প্রভাব ইতোমধ্যে ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে বৈরুতের একাধিক স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী পাল্টা আঘাত হেনেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এখনই কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।






















