জামালপুরের সেলিমাবাদে নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলা নিরাপত্তা, নারী সংরক্ষণ এবং ধর্মের রাজনীতি—এই তিন ইস্যুতে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, “দেশে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই মহিলারা সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত।”
আরও পড়ুন:
জামালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় অভিষেক বলেন, “বিজেপি মহিলা সংরক্ষণের কথা বলছে, অথচ যেসব রাজ্যে তারা ক্ষমতায়, সেখানেই মহিলাদের উপর অত্যাচার সবচেয়ে বেশি। গোটা দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা সর্বাধিক। এটাই ওদের নারীশক্তির প্রতি সম্মান।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ করতে গেলে আগে মানসিকতা বদলাতে হবে।
এ রাজ্যে বিজেপি ৩৩টি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে, আর তৃণমূল দিয়েছে ৫২টি আসনে। আমরা কথায় নয়, কাজে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করেছি।”আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “এই রাজ্যে দু’কোটি ৪২ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি শাসিত ১৬টি রাজ্যের একটিতেও তারা এমন প্রকল্প চালু করতে পারেনি।”
আরও পড়ুন:
বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এই রাজ্যের নাম বাংলা।
এখানে যারা ধর্মের তাস খেলতে আসবে, তারাই হারিয়ে যাবে। সংসদে বিল এনে দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল, সংবিধান বদলাতে চেয়েছিল। আমরা বিরোধীরা একজোট হয়ে তা আটকে দিয়েছি।”আরও পড়ুন:
এদিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকেও আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতর, নির্বাচন কমিশন—সবাই একদিকে, আর বাংলার মেয়ে একদিকে। এটাই বাংলার মেয়েদের শক্তি।”
আরও পড়ুন:
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “আর ১৬ দিন পরে বিজেপি থাকবে না।
মায়েদের বলব, বাড়ির ঝাঁটা হাতে রাখুন। মারার জন্য নয়, বিজেপি এলে ঝাঁটা ধরিয়ে বলবেন—ঘর পরিষ্কার করে দাও।” তাঁর এই মন্তব্যে সভামঞ্চে হাসির রোল পড়ে যায়।আরও পড়ুন:
স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও তিনি তৃণমূল সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। জানান, জামালপুর বিধানসভায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৭টি রাস্তা তৈরি হয়েছে, বসানো হয়েছে ৩০০টি ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন, লাগানো হয়েছে সোলার লাইট এবং গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক কমিউনিটি হল।
আরও পড়ুন:
সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “যেভাবে বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে, ঠিক সেভাবেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ওদের জবাব দিন।”