পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরের ১৫টি মসজিদ সরকারি নির্দেশে সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই উপসনাকেন্দ্রগুলো অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। সংগঠনের নেতারা এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই ধরণের ঘটনা প্রমাণ করে যে অরুণাচল অঞ্চলে ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
জানা গেছে, আদিবাসীদের সংগঠন ‘অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন’ (এপিআইওয়াইও) একটি বনধের ডাক দিয়েছিল।
তাদের দাবি ছিল, এই সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ এবং অবিলম্বে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই বনধের পরেই প্রশাসনের তরফে মসজিদ সিল করার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বনধ পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসন একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, একজন সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট জামা মসজিদসহ ইটানগর রাজধানী অঞ্চলের সমস্ত মসজিদ সিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই ধর্মীয় উপসনাকেন্দ্রগুলি প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন বা নথিপত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।আরও পড়ুন:
এই ঘটনার পরপরই তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে মুসলিম সংগঠনগুলো। অল অরুণাচল প্রদেশ মসজিদ কল্যাণ কমিটি (এএপিএমডব্লিউসি) প্রশাসনকে অবিলম্বে মসজিদগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তারা নিয়মের পক্ষপাতমূলক প্রয়োগ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এএপিএমডব্লিউসি-র সদস্য গিয়াহ লিমপেহ সুলতান বলেন, প্রশাসন যদি মসজিদের বৈধতা ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে, তাহলে একই মানদণ্ড সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা উচিত। সুলতানের মতে, প্রশাসন রাজধানী অঞ্চলের মসজিদগুলোর বৈধতা যাচাই করছে, তবে সম্পূর্ণ আইনি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হতে পারে এমন গির্জা, গুরুদ্বার, নামঘর, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপসনাকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া চালানো জরুরি।আরও পড়ুন:
কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আইনের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের দৃষ্টিতে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা করছে। সুলতানের দাবি, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে যে অন্যান্য সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা মনে করছেন, ইটানগরের ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবেই চাপ সৃষ্টি করে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এপিআইওয়াইও-এর সদস্যরা এর আগে খারিজি মাদ্রাসা নিয়েও আপত্তি তুলেছিল। ওই বাসিন্দা বলেন, তারা আমাদের জিজ্ঞেস করেছিল আমরা এখানে কেন মাদ্রাসা চালাচ্ছি। মসজিদগুলো অবৈধ দাবির বিরোধিতা করে তারা জানিয়েছেন, এই উপসনাকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই বছরের পর বছর ধরে মুসল্লিদের অনুদানে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় জমির মালিকদের সম্মতিতে নির্মিত হয়েছে। কিছু মসজিদ কমিটি জানিয়েছে যে তারা জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে, আবার অন্যরা দাবি করেছে যে তারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা অন্য এক ব্যক্তি বলেন, বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের অনেক মুসলমান এই মসজিদ সিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে অনিচ্ছুক। অরুণাচল প্রদেশে আদিবাসী পরিচয়, অভিবাসন এবং ভূমি অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক বহু বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে, যা প্রায়ই স্থানীয় উত্তেজনা এবং সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। যদিও প্রশাসন তাদের অবস্থানে অটল থেকে দাবি করেছে যে আইনি অনুমোদন না থাকার কারণেই মসজিদগুলো সিল করা হয়েছিল।