ইনামুল হক, বসিরহাট: বসিরহাটে ইট ভাটার চিমনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক মালিকসহ ৪ জন শ্রমিকের। যখম বেশ কয়েকজন শ্রমিক। বসিরহাট থানার শাকচুড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলতিথা গ্রামে একটি ইটভাটায় বুধবার সন্ধ্যেবেলায় চিমনির কাছে ফায়ারিং করার জন্য দক্ষ কারিগরসহ শ্রমিকরা হাজির ছিল। চিমনিতে আগুন লাগাতেই হঠাৎ বিস্ফোরণে হুড় মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে চিমনিটি। চিমনির ধারে কাছে যারা ছিল প্রায় সকলেই চাপা পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলায় আনলে হাসপাতালে হাফিজুল মণ্ডল নামে বছর ৩৫ এর এক ভাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। হাফিজুলের বাড়ি বসিরহাটের পাইকারডাঙ্গায়। বাকি ২ জন ভাঙা চিমনির তলায় চাপা পড়ে মারা যান। তারা হলেন জেঠুরাম ও রাকেশ কুমার। দুজনেরই বয়স ৫০ এর মধ্যে।
বাড়ি উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে অন্য এক ইটভাটার মালিকের। নাম অসিত ঘোষ (৪০)। বাড়ি বসিরহাটের সোলাদানা গ্রামে। তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। বাকিদের উদ্ধার কাজ শুরু হয় রাতেই। জখম সকলকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়ায় কলকাতা আরজিকরের স্থানান্তরিত করা হয়েছে।সর্বশেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে মোট সাতজন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে বসিরহাট থানার পুলিশ জেসিপি লাগিয়ে ভগ্নস্তুপএর তলায় আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। ঘটনাস্থলে বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডক্টর জবি থমাসকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌতম ব্যানার্জি দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধারের কাজ দেখেন। পাশাপাশি দমকলের একটি ইঞ্জিন ও তার সহ বাহিনীরা জেসিবি লাগিয়ে ইটের তলায় চাপা পড়ে মৃতদেহ আছে কিনা সেটাও শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখে। স্থানীয় এক ইটভাটার মালিক লালটু মন্ডল বলেন, আমাদের জ্ঞানে এরকম কখনো দেখিনি। যেভাবে চিমনি ভেঙ্গে পড়ে গেল এটা দুর্ভাগ্যজনক। কি কারণে হয়েছে আমরা বলতে পারছি না।আরও পড়ুন:
[caption id="attachment_98622" align="aligncenter" width="300"]
(শোকার্ত পরিবার। ইনসেটে মৃত হাফিজুল মণ্ডল।)[/caption]
ইটভাটার চিমনি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন কেউ কেউ। প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল মন্ডল বলেন, ঘটনার সময় আমি মৃত হাফিজুল মন্ডলের থেকে ৩০ ফুট দূরে ছিলাম।
চিমনিতে আগুন লাগার সাথে সাথে বিকট আওয়াজ হয়। এমন আওয়াজ আমরা কখনো শুনিনি। এর পেছনে কোন বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র আছে বলেই মনে হয়। এদিন দুর্ঘটনার সময় এই ইটভাটার মালিকও ছিলেন। তিনিও যখম হন। চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে হঠাৎ করে চিমনি ভেঙ্গে পড়ায় গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছে ভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কারো কারো মতে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জমে থাকা মিথেন গ্যাসে আগুন লাগতেই বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে চিমনিটি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল খতিয়ে দেখতে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বসিরহাট পুলিশ জেলার ডিএসপি গোলাম সারোয়ার।আরও পড়ুন:
বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অনুতপ্ত হয়েছেন। যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের পাশে আছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে ফরেনসিক টিম আসবে এবং ক্ষতিয়ে দেখবে ঠিক কী কারনে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলো।