পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পবিত্র রমযান মাসে একের পর এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা। মসজিদুল আকসায় হানাদার বাহিনীর তাণ্ডব। নামায পড়তে আসা মুসল্লিদেরকে নির্যাতন-হেনস্তা। যায়নবাদীদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বিশ্বে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। মুসলিম বিশ্বও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। এই প্রেক্ষিতে রমযান মাসে  যাতে মসজিদুল আকসায় আর কোনও অশান্তি না ঘটে তার জন্য সেখানে কোনও অমুসলিমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই আদেশ জারি হলেও প্রকাশ্যে এসেছে বুধবার। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের মত, চাপে পড়েই পিছু হটেছেন  ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এমনিতেই তেল আবিবে তার সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ চলছে বিচার বিভাগে সংস্কার করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। তার উপর বাইরে থেকে হামাস, হিজবুল্লাহও ছেড়ে কথা বলছিল না।
বিমান হামলার বদলে তারাও রকেট হামলা চালিয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে রমযান মাসে শান্তির পক্ষেই পদক্ষেপ নিল ইসরাইল। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেষ রমযান পর্যন্ত আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স থেকে সব ইহুদি এবং অমুসলিম দর্শনার্থীদের নিষিদ্ধ করা হল। মঙ্গলবার নাবলুসে দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।

ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তের কথা ওই বিবৃতিতে জানান। গত সপ্তাহে আল-আকসা মসজিদের ভেতর ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরাইলের পুলিশ। এর জেরে নতুন করে সহিংসতা বাড়ে। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে গাজা, লেবানন এবং সিরিয়া থেকে রকেট ছোড়া হয়। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি সশস্ত্র যোদ্ধারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর জেরে সাময়িক সময়ের জন্য আল-আকসায় অমুসলিমদের যাতায়াত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
আল-আকসায় অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে রমযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত। রমযান মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে আছে লাইলাতুল কদর। এই শেষ ১০ দিন মুসলিমদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই সময় তারা বেশি বেশি ইবাদত করেন। অনেকে ইতিকাফ নেন। ফলে ভিড় বাড়বে আল-আকসা চত্বরে।

গত এক বছর ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষ অনেক বেড়েছে। এবার রমযান মাস আসার পর উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পবিত্র রমযানে পাসওভার উপলক্ষে ইহুদিরা আল-আকসায় প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদ একটি ইসলামিক স্থান।
যেখানে অমুসলিমদের অযাচিত পরিদর্শন, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ। কিন্তু ইসরাইল দীর্ঘকাল ধরে এই চুক্তি লঙ্ঘন করে আসছে। আল-আকসায় ইসরাইলি বাহিনী প্রতিদিন অভিযান চালায়। এ ছাড়া ফিলিস্তিন বা জর্দানের অনুমতি ছাড়াই তারা সেখানে প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আচার পালন করে। তারাই জেরুসালেমের ইসলামিক ও খ্রিস্টান জায়গাগুলোর রক্ষক। ইসরাইলি বাহিনী ইতিমধ্যেই আল-আকসা মসজিদে কারা প্রবেশ করতে পারবে এবং কখন পারবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এদিকে আল-আকসায় ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতিমার বিন গফির। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, এটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত। এতে পরিস্থিতি শান্ত হবে না। বরং আরো অবনতি ঘটবে। আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের অনুপস্থিতির ফলে সেখানে ইসরাইলের পুলিশ বাহিনীর শক্তি হ্রাস পাবে। এতে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করা ও ইহুদি হত্যার সুযোগ পাবে। তখন তারা আকসার পশ্চিম প্রান্তে ইবাদতরত ইহুদিদের উপরও পাথর নিক্ষেপে ভয় পাবে না।