পারিজাত মোল্লা, আসানসোল: মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছিল বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি কে। এদিন আদালতে এই বিজেপি নেতার মিলেনি জামিন। আগামী ১৪ দিন জেল হেফাজতেই থাকতে হবে কম্বলকাণ্ডে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে। এদিন  এই নির্দেশ দিয়েছেন আসানসোলের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট  তরুণকুমার মণ্ডল। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ এপ্রিল রয়েছে বলে জানা গেছে।

জিতেনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিনের আবেদন নিয়ে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন। ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর  বিজেপি নেতা জিতেনকে হাজির করানো হয়েছিল আসানসোলের সিজিএম আদালতে। এক দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক মণ্ডল। সোমবার অন্যান্য আইনজীবীর সঙ্গে নিজেও শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন আইনজীবী জিতেন। এজলাসে তাঁর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

এর পর সাময়িক ভাবে রায়দান স্থগিত রাখেন বিচারক। কিছুক্ষণ পর জিতেনকে এক দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত  ১৪ ডিসেম্বর আসানসোলে  কম্বল বিতরণে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। ওই ঘটনায় জিতেন, তাঁর স্ত্রী চৈতালি তিওয়ারি-সহ ১৩ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় ৮ জন গ্রেফতার হন প্রথম দিকে।

প্রায় ৬৫ দিন জেলে থাকার পর তাঁরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে  গত ১৫ মার্চ জিতেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১৮ মার্চ তাঁকে দিল্লির যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেফতার করে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।১৯  মার্চ আসানসোল আদালত তাঁকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যেই ২১ মার্চ ওই একই মামলায় আসানসোল পুরনিগমের বিজেপি কাউন্সিলর গৌরব গুপ্তা এবং বিজেপি নেতা তেজপ্রতাপ সিংককে রক্ষাকবচ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। গত ২৩ মার্চ জিতেনের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের ভিত্তিতে তাঁর জামিনের আবেদন করেন। তবে খারিজ হয়ে যায় সেই আবেদন। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্টে কিংবা সুপ্রিম কোর্টে জিতেন্দ্র তেওয়ারির আইনজীবীরা এই গ্রেফতারি, পুলিশি হেফাজতের বিরুদ্ধে কি তথ্য তুলে ধরেন আদালতের কাছে?