পুবের কলম প্রতিবেদক: মানুষ যেমন আধুনিক হয়েছে, তেমনই পরিবেশের ক্ষতিসাধনও করেছে নির্বিচারে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে রক্ষা পাবে না আগামী প্রজন্ম। সেই কথা বিবেচনা করে সরকার নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারই একটি অংশ হল পরিবহণ ক্ষেত্রকে দূষণমুক্ত রাখা। কিছুদিন আগেই তাই কলকাতায় চালু হয় বৈদ্যুতিন বা ই-বাস। জলপথেও ই-যান চলছে। এবার আরও বেশি করে ই-ভেসেল চালাতে চায় রাজ্য পরিবহণ দফতর।

কলকাতা সংলগ্ন পাঁচ-ছয়টি জেলার নদীপথে এগুলি চলবে। তার জন্য আগাম টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু জেটির আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।

গোটা রাজ্যেই জেটিগুলির সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে পরিবহণ দফতর।

জানা গিয়েছে, গঙ্গার বুকে নতুন ই-জলযান চালুর উপর জোর দিচ্ছে সরকার। মেট্রোর ধাঁচে ঝাঁ-চকচকে জল-পরিবহণের উপর নজর রাজ্যের।  তাই ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে বেশ কিছু গঙ্গাপারের ফেরিঘাট।

আগেই ঠিক হয়েছিল বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় গঙ্গাবক্ষে নামানো হবে অত্যাধুনিক ১৫ টি বৈদ্যুতিক জলযান। এবার আগাম তিন বছরের জন্য অর্থ বরাদ্দ করল সরকার। সূত্রের খবর, ই-জলযানগুলি হবে সম্পূর্ণ বাতানুকূল। ভেসেলগুলোতে থাকবে অত্যাধুনিক সিট, বায়োটয়লেট ছাড়াও অনেক উন্নত সুযোগ-সুবিধা।

জানা গিয়েছে, ই-ভেসেল তৈরির জন্য গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে বেছে নিয়েছে সরকার। এই সংস্থাটি ই-ভেসেল  তৈরি করবে। তার জন্য ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পরের বছরের জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ১৭ লাখ, ৫০ হাজার  টাকা।

অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের জন্য ৩কোটি টাকা। এই টাকা প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি সব বাসকে ধীরে ধীরে সাজানোর কথাও ভাবছে সরকার। ইতিমধ্যেই শহর কলকাতায় বেশ সাড়া ফেলেছে ই-বাস। সরকার ভাবছে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিন বাসের উপর ভরসার জায়গা তৈরি করতে হবে। তার জন্য চার্জিং স্টেশন তৈরির কথা ভাবছে সরকার। জাতীয় সড়কের পাশে ই-ভেহিক্যাল চার্জিং স্টেশন তৈরির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নানাভাবে আলোচনা চলছে।