নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। এই অভিযোগে সরব গেরুয়া শিবির। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালি মুসলিমদের বাংলাদেশি সন্দেহে একাধিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে ‘বড়’ করে দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রতিবেশী বাংলাদেশের জন্যও বাজেট বরাদ্দ একই রাখল কেন্দ্র। সেই বরাদ্দে কোনও কাটছাঁট করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
তাছাড়া, এমনিতেই এবার কেন্দ্রীয় বাজেটে বিদেশি অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এই খাতে অনুদান বাবদ ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদি সরকারের বিদেশ মন্ত্রক। যা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। কারণ গতবছর বিদেশি অনুদান বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য তো বটেই পাশাপাশি কৌশলগতভাবে যে দেশগুলি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাদেরও আর্থিক অনুদান দেয় ভারত সরকার। চলতি বছরের বাজেটে সবথেকে বেশি অনুদান বরাদ্দ হয়েছে ভুটানের জন্য।আরও পড়ুন:
ভুটানের জন্য ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গত বছর ভুটানের জন্য ২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।
ভুটানের পরই রয়েছে মালদ্বীপ। মালদ্বীপের সঙ্গেও একসময় কৃটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল ভারতের। তারপরও অবশ্য এবার মালদ্বীপের জন্য বিদেশি অনুদান বাড়ানো হয়েছে। বিগত বছর যেখানে ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, চলতি বছরে তা বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুইজ্জু চিন-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।আরও পড়ুন:
যদিও সম্প্রতি ভারত সফরে আসেন মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গাসান মামুন। তারপরই এবার মলদ্বীপের জন্য অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেল।
একইভাবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও উদ্বেগপ্রকাশ করা হয়েছিল। এই আবহে আগের বছরের মতোই বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি টাকা অনুদান বরাদ্দ করেছে ভারত সরকার।আরও পড়ুন:
ইরানের চবাহার পোর্টের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০০ কোটি। তবে আফগানিস্তানের জন্য যেখানে গত বছর ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, এবার তা একধাক্কায় কমিয়ে অর্ধেক (১০০ কোটি) করে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের জন্য বরাদ্দ ৪০০ কোটি থেকে কমিয়ে ৩৫০ কোটি করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের মোদি সরকারের বাজেটে শ্রীলঙ্কার জন্য ৩০০ কোটি টাকা, নেপালের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ ২০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২২৫ কোটি করা হয়েছে। লাতিন আমেরিকার বরাদ্দ ৯০ কোটি থেকে কমিয়ে ৬০ কোটি করা হয়েছে।