পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কুফার মাটিতে শুরু, মক্কার পবিত্র প্রান্তরে শেষ। ১,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ শুধু মরুভূমির বুকে আঁকা একটি রাস্তা নয়; এ এক ইতিহাস, এক সাধনা, এক আত্মত্যাগের সাক্ষর, যার নাম দারব যুবাইদা।

এই পথ ধরে হাজার হাজার বছর আগে হজযাত্রীরা যাত্রা করতেন মহান এক উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরে পৌঁছনোর আশায়। সূর্যদগ্ধ মরুভূমি, ঝোড়ো হাওয়া, তৃষ্ণা আর ক্লান্তির মাঝে ছিল একটাই আশ্রয়; এই রাস্তায় গড়ে ওঠা বিশ্রামস্থান, জলাধার এবং পথপ্রদর্শক মিনার।

এই পথের প্রতিটি ধুলোয় মিশে আছে লাখো মানুষের কষ্ট, ত্যাগ আর প্রার্থনার কথা।

আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদের স্ত্রী, যুবাইদা বিনত জাফর-এর নাম অনুসারেই এই পথের নামকরণ। তিনি ছিলেন দানশীলতা, দূরদৃষ্টি এবং মানবতার এক প্রতীক। নিজস্ব অর্থে তিনি নির্মাণ করিয়েছিলেন জলাশয়, পাথরের মিনার, আশ্রয়কেন্দ্র;যেন হজযাত্রীরা পায় একটু শান্তি, একটু ছায়া। জল ছিল সোনার চেয়েও দামি।

তাই পাথরের তৈরি বিশাল ট্যাঙ্ক, কুয়ো ও পুকুর বসানো হয়েছিল পথের মাঝে মাঝে।

পথিকরা পান করতেন, হাত-মুখ ধুতেন, আল্লাহ্র নাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করতেন। অজস্র বালি আর মরুর মাঝে মানুষ পথ ভুলে যেত; তাই দিক দেখাত ‘আলমানার’, পাথরের তৈরি উঁচু মিনার। প্রতিটি স্টেশনের মাঝে স্থাপন করা হত এই দিকনির্দেশক মিনার, যেন মানুষ পথ না হারায়, হারালেও ফিরে পায় আলোর রেখা।

সউদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অন্তর্গত এই মহাপথ ফিরে পাচ্ছে নতুন জীবন। জাতীয় সংস্থা ও ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি একত্র হয়ে দারব যুবাইদার প্রতিটি ধ্বংসপ্রায় নিদর্শনকে নতুন করে নির্মাণ করছে, সংরক্ষণ করছে ইতিহাসের শেকড়কে। এই পথ এখন শুধু পর্যটনের আকর্ষণ নয়; এ এক জীবন্ত ইতিহাস, যেখানে পায়ের ছাপে মিশে আছে প্রার্থনা, পথের ধুলোয় আছে বিশ্বাস, আর প্রতিটি পাথরে লেখা আছে সেবা ও উৎসর্গের কাহিনি।