পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের লাতুরে ৭ ডিসেম্বর ওয়াকফ বোর্ড ১০০-র বেশি কৃষকদের নোটিশ পাঠিয়েছে। কর্নাটকের মতো এখানেও বাজার গরম করার চেষ্টা শুরু হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। মহারাষ্ট্র ওয়াকফ বোর্ড এইসব কৃষকদের উদ্দেশ্যে নোটিশ জারি করেছে যারা ওয়াকফ সম্পত্তি না জেনেই দীর্ঘ সময় ধরে চাষবাস করছিলেন। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা এবং জেপিসির চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পল নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন কর্নাটক হোক আর মহারাষ্ট্রের লাতুর নোটিশ জারি করে দিলেই জমির মালিক হওয়া যায় না।
আরও পড়ুন:
এই সব সম্পত্তিতে বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা চাষবাস করছেন। অনেক সম্পত্তিও সরকারের অধীনে রয়েছে।
এখন ওয়াকফ বোর্ড বলছে এই জমির মালিকানা তাদের। জগদম্বিকা পল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে নিয়ে এলেন। তিনি বলেন, ওয়াকফ তৈরির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সেবা করা। কারো চাষের জমি কেড়ে নেওয়া হলে ওয়াকফের আসল উদ্দেশ পূরণ হতে পারে না।আরও পড়ুন:
READ MORE: ৯৯৪টি ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে: কেন্দ্র
আরও পড়ুন:
কিসানরা দশকের পর দশক এই জমিতে চাষ করে আসছেন। হতে পারে এই জমি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দাতব্য কাজে লাগানোর জন্য দান করা হয়েছে কিন্তু এখন যদি কিসানরা জমি ছাড়তে না চায় তাহলে সেই জমি কিভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে?
জেপিসি চেয়ারম্যানের নয়া ফবমূলা, যে সব জমি সরকার দখলে নিয়েছে এবং যেসব জমি কিসানদের হাতে রয়েছে সেইসব জমি ওয়াকফের হতে পারে না।আরও পড়ুন:
এই উদ্দেশ্যেই ওয়াকফ সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে মিঃ পল খোলাসা করে দিলেন আজ। শুধু নোটিশ জারি করলে ওয়াকফ বোর্ড মালিকানা ফিরে পেতে পারে না। তিনি বলেন, সেজন্যই সারা দেশে নতুন করে ওয়াকফ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্টার করার জন্য বিল আনা হয়েছে। তাহলে এইসব বিবাদের সমস্যা সহজে সমাধান হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য জেপিসি গঠনের পর জগদম্বিকা পলের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী সদস্যরা।
বিরোধীরা মনে করছেন জেপিসি গঠন করা হয়েছে সংসদে বিরোধীদের চাপে কিন্তু মোদি সরকার চেষ্টা করছে সংখ্যার জোরে এই বিল পাশ করিয়ে নিতে। বিরোধীদের অভিমতকে জেপিসিতে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।আরও পড়ুন:
আরও উল্লেখ্য যে কর্নাটক ওয়াকফ বোর্ডও এক ধরনের নোটিশ জারি করেছিল। কেউ জানায় তারা কেউ জমি কেড়ে নিতে চায়নি শুধু জানতে চেয়েছিল জমির মালিকানা বোর্ডের রয়েছে কিনা? শুধু কর্নাটকে নয়, সারা দেশে বহু মূল্যবান ওয়াকফ সম্পত্তি দখল হয়ে রয়েছে। এখন সেসব জমি উদ্ধার ও চিহ্নিত করা শুরু হতেই শোরগোল পড়ে যাচ্ছে এই বলে যে ওয়াকফ চাষীদের জমি কেড়ে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
জমির মালিকানা চিহ্নিত হয় দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি উঠছে দখল যার জমি তার, মালিকানা তার। নতুন বিল এনে সেই উদ্দেশ্যকেই পূর্ণরূপ দিতে চায় বিজেপি সরকার। আর সে কারণে সারা দেশে মুসলিমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এই বিল নিয়ে।