পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। বুথে ভোট দেওয়ার আগে আঙুলের ছাপ (Fingerprint) এবং চোখের মণি (Iris Scan) স্ক্যান করার পর তবেই ভোট দিতে পারবেন ভোটার। এমন আর্জি জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। তিনি পিটিশনে উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট।

 
 
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই আবেদনের গুরুত্ব অনুধাবন করে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে জবাব তলব করেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছে, আধার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে ভোটার তালিকার সংযোগ ঘটিয়ে বুথে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা কতটা সম্ভব।
 
তবে আদালত একই সঙ্গে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যার কথাও তুলে ধরেছে। সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই নিয়ম কার্যকর করতে হলে বর্তমান নির্বাচনী আইনে বড় ধরনের সংশোধন প্রয়োজন।
দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ বুথে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানো অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ কাজ। বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য যে ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা তৈরি করা সময়সাপেক্ষ।
 
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারী আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় দাবি করেন, এই পরিবর্তন আনার পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, এটি ক্ষমতার বিষয় নয়, বরং নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও প্রয়োগযোগ্যতার বিষয়। চলতি নির্বাচনে এই পদ্ধতি চালু করা সম্ভব না হলেও, আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে এটি কার্যকর করা যায় কি না, সে বিষয়ে কমিশনকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হলে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রিগিং বা ভুয়ো ভোটারদের দাপট চিরতরে বন্ধ হতে পারে।