১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি: আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়েকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইসরাইল

তেল আবিব, ২৩ মে: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ে। দেশগুলির এই সিদ্ধান্তে ফুঁসছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার পরই আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়েকে হুঁশিয়ারি দিল তেল আবিব। ইসরাইলের বিদেশমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়েকে কড়া ভাষায় জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ইসরাইল নীরব থালবে না। আমরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করবে না।”

 

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণা আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ের

একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ডাবলিন ও অসলো থেকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের জরুরি আলোচনার জন্য দেশে ফিরিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ের এই পদক্ষেপের কারণে খারাপ পরিণতি হবে। স্পেন যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ অনুসরণ করে, তবে তার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: ক্যানসার আক্রান্তে শীর্ষে আয়ারল্যান্ড

 

গত বুধবার নরওয়ে প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “নরওয়েজিয়ান সরকার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৮ মে নরওয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে।” স্টোরের কথায়, ‘এই যুদ্ধের মধ্যে যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। সেখানে আমাদের কাছে একমাত্র বিকল্প উপায় হলো ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব। যাতে দুটি রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে।’ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‌‘দুই রাষ্ট্রের সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান হতে পারে না। অন্য কথায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র পূর্বশর্ত।’

 

অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “ইসরাইল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলি এই পথ অনুসরণ করবে। কারণ আমরা সংখ্যায় বেশি হলে গাজায় যুদ্ধবিরতি আরোপ করা সম্ভব হবে। হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।” এদিকে ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করেন। সেখানেই তিনি বলেন, “আয়ারল্যান্ড চাই ফিলিস্তিন-ইসরাইলের নাগরিকরা নিরাপদে এবং প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক।”

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি: আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়েকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইসরাইল

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার

তেল আবিব, ২৩ মে: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ে। দেশগুলির এই সিদ্ধান্তে ফুঁসছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার পরই আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়েকে হুঁশিয়ারি দিল তেল আবিব। ইসরাইলের বিদেশমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়েকে কড়া ভাষায় জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ইসরাইল নীরব থালবে না। আমরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করবে না।”

 

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণা আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ের

একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ডাবলিন ও অসলো থেকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের জরুরি আলোচনার জন্য দেশে ফিরিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ের এই পদক্ষেপের কারণে খারাপ পরিণতি হবে। স্পেন যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ অনুসরণ করে, তবে তার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: ক্যানসার আক্রান্তে শীর্ষে আয়ারল্যান্ড

 

গত বুধবার নরওয়ে প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “নরওয়েজিয়ান সরকার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৮ মে নরওয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে।” স্টোরের কথায়, ‘এই যুদ্ধের মধ্যে যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। সেখানে আমাদের কাছে একমাত্র বিকল্প উপায় হলো ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব। যাতে দুটি রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে।’ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‌‘দুই রাষ্ট্রের সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান হতে পারে না। অন্য কথায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র পূর্বশর্ত।’

 

অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “ইসরাইল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলি এই পথ অনুসরণ করবে। কারণ আমরা সংখ্যায় বেশি হলে গাজায় যুদ্ধবিরতি আরোপ করা সম্ভব হবে। হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।” এদিকে ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করেন। সেখানেই তিনি বলেন, “আয়ারল্যান্ড চাই ফিলিস্তিন-ইসরাইলের নাগরিকরা নিরাপদে এবং প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক।”