পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন বিতর্কিত বিল পেশ করেছেন উটাহ রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি। ‘ইন্টারস্টেট অস্কিনিটি ডেফিনিশন অ্যাক্ট ‘ নামের এই বিল অনুযায়ী, কী ধরণের কনটেন্ট ‘অশ্লীল’ বলে গণ্য হবে, তার আইনি সংজ্ঞা বদলানো হবে।

যদি এই আইন পাস হয়, তা হলে অনলাইনে যৌন কনটেন্ট ছড়ানো বা শেয়ার করা সম্পূর্ণ বেআইনি হয়ে যেতে পারে। অনেকে বলছেন, এর ফলে কার্যত পর্নোগ্রাফির উপরে জাতীয় স্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। আইনজীবী কোরি ডি. সিলভারস্টেইন বলেন, তএই প্রস্তাবিত আইন বাস্তবে কার্যকর হলে, সব ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন;যেমন পর্নোগ্রাফি;অশ্লীল বলে গণ্য হবে এবং তা বেআইনি হয়ে যাবে।

এই আইনের লক্ষ্য ১৯৭৩ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের মিলার বনাম ক্যালিফোর্নিয়া মামলার ভিত্তিতে তৈরি করা অশ্লীলতার পুরনো সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো। সমালোচকদের মতে, সেই পুরনো সংজ্ঞাগুলি আজকের ডিজিটাল যুগে প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন এবং অবাস্তব।

বিলটি পাস হলে; যে কোনও ওয়েবসাইটে পর্ন বা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট রাখা বা প্রচার করা অপরাধ বলে ধরা হবে। এমনকি সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি কনটেন্টও ‘অশ্লীল’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে কিংবা বিদেশ থেকে কনটেন্ট ছড়ানো হলে, তা ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিলটি কংগ্রেসে পেশ করার পরে মাইক লি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, অশ্লীলতা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা রক্ষিত নয়। অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগ নিয়ে পর্ন কোম্পানিগুলি সমাজে বিষ ছড়াচ্ছে, শিশুদের টার্গেট করছে এবং নির্বিচারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, তমানুষকে পণ্য বানিয়ে যারা ব্যবসা করছে, তাদের থামানোই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

এই বিল কংগ্রেসে আলোচনার জন্য তোলা হচ্ছে চলতি মাসেই। তবে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। তাই এই বিল আইন হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন দুনিয়ায় এক বিরাট পরিবর্তন আসবে, যার প্রভাব পড়বে বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং বিনোদন শিল্পে।