পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ঋণগ্রস্ত আদানিদের বাঁচাতে এলআইসির অর্থ ব্যবহার করেছে মোদি সরকার। ওয়াশিংটন পোস্টের এই রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। আদানি ও এলআইসি দুই সংস্থাই ওয়াশিংটন পোস্টের সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।
আরও পড়ুন:
এবার ভারতীয় জীবন বিমা নিগম ও আদানি ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রকে বিধলেন বিরোধীরা। দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই গটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। হাত শিবিরের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, "কার চাপে অর্থমন্ত্রক এবং নীতি আয়োগের আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে দুর্নীতির অভিযোগ সত্বেও একটি বেসরকারি সংস্থাকে অর্থ দিলেন।
"আরও পড়ুন:
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, এই ইস্যুটি জনসাধারণের আস্থা ভঙ্গ করেছে। মোদি সরকার কর্পোরেট মিত্রদের সমর্থন করার জন্য নাগরিক বীমা সঞ্চয়ও ব্যবহার করছে। গড় পলিসিহোল্ডারদের কোনও ধারণা ছিল না, যে তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় আদানিকে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের আড়ালে লুটপাট চলছে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে আদানি গোষ্ঠী যখন ঋণে জর্জরিত।
সেসময় এলআইসির তরফে ৩৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর দাবি ছিল, সেসময় আদানিদের প্রতি আস্থা দেখাতে সরকারের কলকাঠিতেই ওই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।আরও পড়ুন:
ওই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করা শুরু করে কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেস বলেছে, "মোদানি যৌথ প্রকল্পের আওতায় এলআইসিতে ৩০ কোটি মানুষের সঞ্চয়ের অপব্যবহার হচ্ছে বলে খবর। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যাচ্ছে, আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন আধিকারিকরা। সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির উচিত বিষয়টি তদন্ত করে দেখা।
আরও পড়ুন:
এলআইসিকে জোর করে আদানি গোষ্ঠীতে বিনিয়োগে বাধ্য করা হচ্ছে কেন, দেখা হোক খতিয়ে।" এদিকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তুলে বলেছেন, "আমি দুঃখিত, কিন্তু ভুয়ো খবর কোনটি? করদাতাদের ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে আদানিকে বাঁচানোর খবর ভুল? না কি অর্থমন্ত্রককে তাড়াতাড়ি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বলার খবর ভুল?" কেজরির দল আম আদমি পার্টিও নিশানা করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, "নিজের বন্ধুর জন্য গোটা দেশের সর্বনাশ করছেন মোদি।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, বন্ধু গৌতম আদানির সংস্থায় ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য মে মাসে মোদি সরকার এলআইসির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এলআইসির অর্থ আজ মোদিজির বন্ধুর ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করা হচ্ছে'।