রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর নাম বাদ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হলো বিএলওদের হাতে। এই কারণে মঙ্গলবার রাতেই বিএলও অ্যাপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন অপশনের মাধ্যমে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের সময় যদি কোনও ভুল ধরা পড়ে, তাহলে বিএলওরা নিজেই তা সংশোধন করতে পারবেন, এমনকি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ‘আনম্যাপ’ও করতে পারবেন।

বিএলওদের অভিযোগ ছিল,ফর্ম আপলোডে ভুল হলে তা সংশোধনের কোনও সুযোগ থাকে না, অথচ সেই ভুলের দায়ও তাদেরই নিতে হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন অ্যাপে এই নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে। বুধবার সকাল থেকেই নতুন অপশন কার্যকর হয়েছে। অনেক বিএলওর দাবি, এতে কাজের সুবিধা বাড়বে এবং ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের সুযোগ মিলবে।

তবে কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্ন। তাঁদের অভিযোগ— সন্দেহজনক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষমতা বিএলওদের হাতে গেলে অপব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

যোগ্য ভোটারদের রাজনৈতিক কারণে ‘আনম্যাপ’ করা হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়া। সেখানে খসড়া তালিকায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বহু যোগ্য ভোটারকে মৃত বা রাজ্যছাড়া দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বিপুলসংখ্যক নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত কি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক হলো? পশ্চিমবঙ্গেও কি বিহারের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।