ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এসআইআর মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট-এ। আইনজীবী মহলের মতে, এই শুনানিতেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করার সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বিচারাধীন ভোটারদের একাধিক তালিকা প্রকাশ করা হলেও, ঠিক কতজনের নাম বাদ পড়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে ষষ্ঠ অতিরিক্ত তালিকা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, মোট ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৪৬ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে, বাকি রয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।


নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার মনোনয়ন শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল এবং ওই দিনই সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার কথা। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৯ এপ্রিল। তবে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও বিচারাধীন থাকায় এই সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েই মূলত শুনানি।
অভিযোগ উঠেছে, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যদিও ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন, কিন্তু এখনো পর্যন্ত ট্রাইবুনালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি।
জানা গেছে, বেহালার এসপি মুখার্জি ইনস্টিটিউশনে ট্রাইবুনালের দপ্তর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ১৯ জন বিচারপতি বসতে পারবেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন মিললেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। নদীয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য-কে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের মতে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে, ভোটের আগে রাজ্য প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস-এর দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর বেঞ্চ এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও করেছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানির দিকে।