পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট-এ শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ভোটের আগে ফর্ম ৬ জমা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন তপ্ত, তখন আদালতে বিষয়টি নিয়ে সরব হল রাজ্যপক্ষ। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। তাঁর প্রশ্ন, “বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি যখন চলছে, তখন কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে?” তিনি আরও দাবি করেন, একজন ব্যক্তিই প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন—যা অত্যন্ত সন্দেহজনক।


 
এর জবাবে নির্বাচন কমিশন-এর আইনজীবী জানান, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত। কমিশনের মতে, যে কেউ ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন, তবে তা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের। পাশাপাশি, আপত্তি থাকলে ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার বিধানও রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তি জারির পর যে ভোটার তালিকা কার্যকর থাকে, সেই তালিকা মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভোটাধিকার পাওয়া যায় না। এছাড়া, এবারের নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে না পারলেও তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
 
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের বাংলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। দীর্ঘ শুনানির পর এদিনের মতো কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।