পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউপিএ আমলে প্রণীত তথ্যের অধিকার আইন (RTI Act) এবার বড়সড় বদলের মুখে পড়তে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত মিলল কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হওয়া এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তথ্যপ্রকাশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ফলে কিছু নির্দিষ্ট নথি ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা আরটিআইয়ের আওতার বাইরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে, আরটিআই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু ক্রমে এই আইনকে অনেক ক্ষেত্রে অহেতুক কৌতূহল মেটানো বা প্রশাসনিক কাজকর্মে হস্তক্ষেপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মন্থর হচ্ছে এবং আধিকারিকদের উপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে প্রণীত এই আইনটি বর্তমান বাস্তবতায় পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট খসড়া, অভ্যন্তরীণ আলোচনা কিংবা প্রাথমিক প্রস্তাবগুলিকে গোপন রাখা যেতে পারে। শুধুমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, চাকরিজীবনের রেকর্ড ও বদলির ইতিহাস-সহ নানা সংবেদনশীল বিষয়ও আরটিআইয়ের আওতার বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে প্রশাসনের কাজের গতি বাড়বে এবং আধিকারিকরা আরও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবেন।

তাঁদের আশঙ্কা, প্রতিটি খসড়া বা আলোচনার তথ্য প্রকাশ্যে এলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়তা তৈরি হয় এবং নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।

তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আসলে আরটিআই আইনের ধারই ভোঁতা করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করেই তথ্যের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার পথে হাঁটছে সরকার। এর ফলে নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আরটিআই আইন সংশোধনের ইঙ্গিত নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বচ্ছতা বনাম প্রশাসনিক স্বাচ্ছন্দ্য—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে সরকার, সেদিকেই তাকিয়ে।