পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইস্তফা দিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। প্রবল চাপের মুখে ইস্তফা। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ। জনতাকে হঠাতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রয়েছে সনৎ জয়সূর্য।

সূত্রের খবর, ইস্তফা দেবেন রাষ্ট্রপতি।

অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন স্পিকার। শ্রীলঙ্কায় গঠিত হবে সর্বদলীয় সরকার।

রনিল সিংহে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার তিন মাসের মধ্যেই ফের অগ্নিগর্ভ শ্রীলঙ্কা। পথে নেমে বিক্ষোভে উত্তেজিত মানুষ।

কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান রনিল বিক্রমাসিংহে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ভেতর সাধারণ মানুষ ঢুকে পড়ার পর জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে৷ বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, তারা চায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনিও যেন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন৷

এর আগে বিকেলে ইস্তফার দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ হয় প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংঘের বাড়িতে৷ তুমল বিক্ষোভ হয় ফিফথ লেনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাড়ির সামনে।

একইসঙ্গে বিক্ষোভ চলে কলম্বোতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিতে। এই বিক্ষোভের আবহেই নানা চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা দিতে রাজি হন৷ স্পিকারের ডাকা বৈঠকে তিনি ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন৷ শুধু তাই নয়, যদি কোনও সর্বদল সরকার হয়, তাতেও তিনি রাজি আছেন বলে জানান।

যদিও কিছুক্ষণ আগেই তিনি দলীয় বৈঠকেই জানিয়েছিলেন, ইস্তফা দেবেন না। ওই বৈঠকের কিছু সময় আগে ইস্তফা দেন প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ইউনিটের ডিজি সুদেবা হিতিয়াচ্ছি।

শনিবার দিনভর বিক্ষোভের ফলে ৫৫ জন জখম নাগরিক জখম হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে তিনজনের গুলি লাগে।

তাঁদের কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা  আশঙ্কাজনক।

এদিন উত্তপ্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্পিকার। তাতে ঠিক হয়, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট দ্রুত পদত্যাগ করবেন। সংসদের স্পিকার খুব বেশি হলে একমাসের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ চালাবেন। দেশের সংবিধানে সেরকমই বলা আছে।

কলম্বোতে দেশটির সাধারণ জনগণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পরপরই শুক্রবার রাতে বাসভবন ছেড়ে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে আশ্রয় নেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। কলম্বোয় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে  নেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।