পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ‘সংখ্যাগুরুদের মর্জিমতোই দেশ চলবে। কাঠমোল্লারা দেশের শত্রু।’- বিষবাষ্প উগরে দিলেন ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর কুমার যাদব। এর আগে হিন্দুত্ববাদী নেতা কিংবা একাধিক বিজেপি নেতা এধরনের বিদ্বেষ ছড়ানো মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার খোদ বিচারপতি! বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক অনুষ্ঠান-মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিচারপতির এমন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ-ভাষণে ক্ষুব্ধ সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিচারপতি শেখর কুমার যাদব।
ওই মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, এটা হিন্দুস্তান। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের মর্জিমতোই দেশ চলবে। এটাই আইন। আমি হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বলছি না। দেশে বেশিরভাগ মানুষের কাছে যা গ্রহণযোগ্য, শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করা হয়।আরও পড়ুন:
বিচারপতি শেখর যাদবের মন্তব্যকে সংবিধানের পরিপন্থী, বিভিন্ন মহলে তাঁর এই বক্তব্যে প্রতিবাদ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লিগ্যাল সেল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। বিচারপতি শেখর ২০২৬-এ অবসর গ্রহণ করবেন।
সমালোচকরা কটাক্ষ করে বলছেন, অবসরের পর পাকাপোক্ত বন্দোবস্ত করতেই এমন বিদ্বেষ ভাষণ দিয়েছেন বিচারপতি।আরও পড়ুন:
সংখ্যালঘু মুসলিমদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘কাঠমুল্লা’-রা দেশের শত্রু। এরো দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। দেশের নিরাপত্তার জন্য ভয়ঙ্কর।’ এদের থেকে সতর্ক থাকা দরকার। মুসলিমদের একাধিক বিয়ে, তালাক প্রথা, হালাল নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন এই বিচারপতি। এছাড়াও তিনি বলেন, শাস্ত্র বা বেদে যে নারীকে দেবী হিসেবে ব্যাখা করা হয়েছে, তাঁকে অপমান করা যায় না, কেউ যদি এমনটা করে তা সহ্য করা হবে না। কারোর অধিকার নেই চার-পাঁচটা বিয়ে করা এবং তিন তালাক দেওয়ার।
আরও পড়ুন:
এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও বিচারপতি এস কে যাদবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্টে লিখেছেন, ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিচারকের কাছ থেকে সংখ্যালঘুরা কীভাবে ন্যায়বিচার আশা করবে?
আরও পড়ুন:
যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নিষিদ্ধ করেছিলেন, তাদের কর্মসূচিতে বিচারপতির অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াইসি। মুসলিমদের কাঠমুল্লা বলায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বলেন, একজন হাইকোর্টের বিচারপতি ‘ধর্মান্ধ’ শব্দ ব্যবহার করছেন এবং ভারতীয় মুসলিমদের জন্য শর্ত নির্ধারিত করে দিচ্ছেন। যা যথেষ্ট চিন্তার।’
আরও পড়ুন:
বিচারপতি শেখর কুমার যাদব অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবীও ছিলেন। রেলওয়ে এবং ভারত সরকারের আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। শেখর কুমার যাদব ইলাহাবাদ হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২৬ মার্চ, ২০২১-এ তিনি স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নেন।
আরও পড়ুন:
তবে এবারই প্রথম নয়, বিচারপতি শেখর কুমার যাদব ২০২১ সালে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছিলেন গরুই একমাত্র প্রাণী যে অক্সিজেন ছাড়ে। এছাড়াও গরুকে জাতীয় প্রাণী হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।