মুহাম্মদ মহররম হোসেন মাহদী: তায়েফের জমিনে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে নবী সা.-এর দেহ মোবারক পাথরের আঘাতে রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তবু নবী সা. বদ্দোয়া দেননি। বরং হাত তুলে মোনাজাত করেছেন, ‘আল্লাহ্! ওরা বোঝে না। ওদের ক্ষমা করে দাও।’

নবীজি সা.-এর পথে কোনও এক বুড়ি নিয়মিত কাঁটা পুঁতে রাখত। নবী সা. তার কোনও প্রতিবাদ করতেন না।

আস্তে করে কাঁটাগুলো রাস্তার পাশে সরিয়ে চলে  যেতেন  গন্তব্যে। একদিন দেখতে পান রাস্তায় কাঁটা  নেই। নবী সা. ভাবলেন নিশ্চয়ই কোনও অসুবিধা হয়েছে। তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করে সন্ধান জেনে বুড়ির বাড়িতে গেলেন। দেখেন, সত্যিই বুড়ি অসুস্থ  হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তাকে সেবাযত্ন করার মতো কেউ নেই। যদিও বুড়ি রাস্তায় কাঁটা পুঁতে রাখত; কিন্তু দয়ার নবী, মায়ার নবী, রহমতের নবী সা. তার সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তুললেন।

কোনও এক সময় মক্কায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে নবী সা. বিবি খাদিজা রা.-এর ধন-ভাণ্ডার খুলে অকাতরে  গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেন। ফলে দুর্ভিক্ষের  কবল থেকে বহু লোক প্রাণে রক্ষা পায়।

সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নবীজি সা. ওহুদের যুদ্ধে দু’টি দাঁত মোবারক শহিদ করেছেন। এছাড়াও সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যালিমদের বিরুদ্ধে বহু যুদ্ধে নবী সা. স্বয়ং অংশ গ্রহণ করেছেন।

একদিন নবী সা. ঈদের নামায পড়তে গিয়ে দেখতে পান, একটি ইয়াতিম-অসহায় ছেলে ঈদগাহের  এককোণে বসে কাঁদছে। নবী সা. তার কাছে গিয়ে  তাকে আদর করলেন, মাথায় হাত বুলালেন এবং বাড়ি  এনে নতুন জামা-কাপড় কিনে দিলেন। আনন্দে ভরে  উঠল ছেলেটির হৃদয়।

তার মনে আর দুঃখ রইল না।

নবী সা. প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে সৃষ্টির সেবায়  নিয়োজিত রেখেছেন। আমাদের সবার উচিত মহানবী  সা.-এর আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং তাঁর আদর্শে জীবন গড়া। আমাদের প্রার্থনা হোক এই-‘হে আল্লাহ্! আমার হাত দ্বারা, পা দ্বারা, জবান দ্বারা এবং কোনও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা যেন তোমার কোনও সৃষ্টি কষ্ট না পায়। হে আল্লাহ্! আমাদের হৃদয়কে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দাও, যেন বিশ্বকে আপন করে নিতে পারি, মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, আর জীবনের শেষ মুহূর্তটুকু  পর্যন্ত যেন নিজেকে সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত রাখতে পারি। তুমি সেই তাওফিক দান কর। আমিন!’