২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এই প্রথম ভোটার কার্ড পেল ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামের আদিবাসীরা

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে এক যুগ। ভারত স্বাধীনতা দিবসের ৭৫ বছরের পূর্তি উপলক্ষে আজাদি কি অমৃত মহোৎসব পালন করছে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত নাগরিকত্ব প্রমাণের অন্যতম নথি ভোটার কার্ড ছিল না ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির মানুষের কাছে। এই বছরের শেষের দিকে ছত্তিশগড় বিধানসভার নির্বাচন। সেই কথা মাথায় রেখেই এই প্রথম ভোটার কার্ড পেলেন ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামের আদিবাসীরা। রাজ্যের প্রত্যন্ত গামপুর গ্রামের ২৩৩ জন আদিবাসী সচিত্র পরিচয়পত্র হাতে পেল। রায়পুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রত্যন্ত মাওবাদী প্রভাবিত বিজাপুর জেলায় বসবাসকারী আদিবাসীদের হাতে ক্যাম্প করে ভোটার কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের কথায়, মাওবাদী অধ্যুষিত এই গ্রামগুলিতে ভোটার কার্ড দেওয়া সহজ কাজ ছিল না। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে জেলার ৪০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চলে মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলস্বরূপ, যে কোনও কর্মসূচি বা পরিকল্পনার জন্য মাওবাদীদের অন্তর্নিহিত সম্মতির প্রয়োজন আছে। বিজাপুরের গামপুরের মানুষ কেবল নিরক্ষরই নয়, তাদের কাছে মোবাইল ফোন, আধার কার্ড কিছুই নেই। ফলে খুব কঠিন ছিল আদিবাসীদের কাছে পৌঁছনো।

আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়: এনকাউন্টারে খতম ২ মাওবাদী, উদ্ধার একে-৪৭

বিজাপুরের কালেকটর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত হওয়ার পর, গামপুর গ্রামের মানুষ এখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। স্থানীয় সাপ্তাহিক হাট বাজারের মতো সুবিধাজনক কয়েকটি জায়গায় শিবির সংগঠিত করে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে গিয়ে আদিবাসীদের কাছে পৌঁছনোর কাছে চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাওবাদী বিরোধী অভিযান: ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফারণে আহত ১১ নিরাপত্তা কর্মী

এই বছরের শেষের দিকে ছত্তিশগড়ের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির আদিবাসীরা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার জন্য তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশন ভোটার কার্ড প্রস্তুত করেছে। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়াও গ্রামবাসীদের আধার, রেশন, আয়ুষ্মান এবং শ্রম কার্ডও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলির লড়াই, খতম ২ মাওবাদী

বিজাপুর জেলা প্রশাসনের মতে, এখনও এমন আদিবাসী গ্রাম রয়েছে যেখানে মানুষের ভোটার আইডি কার্ড নেই। অনেকের কাছে পরিচয়ের সঠিক তথ্য নেই। তাদের কাছেও পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাওবাদীদের ভোট বয়কটের আহ্বান সত্ত্বেও তাদের তালিকাভুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সরকারের তরফে।

 

 
সর্বধিক পাঠিত

‘১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ চলে যাবে’, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এই প্রথম ভোটার কার্ড পেল ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামের আদিবাসীরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে এক যুগ। ভারত স্বাধীনতা দিবসের ৭৫ বছরের পূর্তি উপলক্ষে আজাদি কি অমৃত মহোৎসব পালন করছে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত নাগরিকত্ব প্রমাণের অন্যতম নথি ভোটার কার্ড ছিল না ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির মানুষের কাছে। এই বছরের শেষের দিকে ছত্তিশগড় বিধানসভার নির্বাচন। সেই কথা মাথায় রেখেই এই প্রথম ভোটার কার্ড পেলেন ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত গ্রামের আদিবাসীরা। রাজ্যের প্রত্যন্ত গামপুর গ্রামের ২৩৩ জন আদিবাসী সচিত্র পরিচয়পত্র হাতে পেল। রায়পুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রত্যন্ত মাওবাদী প্রভাবিত বিজাপুর জেলায় বসবাসকারী আদিবাসীদের হাতে ক্যাম্প করে ভোটার কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের কথায়, মাওবাদী অধ্যুষিত এই গ্রামগুলিতে ভোটার কার্ড দেওয়া সহজ কাজ ছিল না। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে জেলার ৪০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চলে মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলস্বরূপ, যে কোনও কর্মসূচি বা পরিকল্পনার জন্য মাওবাদীদের অন্তর্নিহিত সম্মতির প্রয়োজন আছে। বিজাপুরের গামপুরের মানুষ কেবল নিরক্ষরই নয়, তাদের কাছে মোবাইল ফোন, আধার কার্ড কিছুই নেই। ফলে খুব কঠিন ছিল আদিবাসীদের কাছে পৌঁছনো।

আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়: এনকাউন্টারে খতম ২ মাওবাদী, উদ্ধার একে-৪৭

বিজাপুরের কালেকটর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত হওয়ার পর, গামপুর গ্রামের মানুষ এখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। স্থানীয় সাপ্তাহিক হাট বাজারের মতো সুবিধাজনক কয়েকটি জায়গায় শিবির সংগঠিত করে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে গিয়ে আদিবাসীদের কাছে পৌঁছনোর কাছে চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাওবাদী বিরোধী অভিযান: ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফারণে আহত ১১ নিরাপত্তা কর্মী

এই বছরের শেষের দিকে ছত্তিশগড়ের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির আদিবাসীরা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার জন্য তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশন ভোটার কার্ড প্রস্তুত করেছে। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়াও গ্রামবাসীদের আধার, রেশন, আয়ুষ্মান এবং শ্রম কার্ডও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলির লড়াই, খতম ২ মাওবাদী

বিজাপুর জেলা প্রশাসনের মতে, এখনও এমন আদিবাসী গ্রাম রয়েছে যেখানে মানুষের ভোটার আইডি কার্ড নেই। অনেকের কাছে পরিচয়ের সঠিক তথ্য নেই। তাদের কাছেও পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাওবাদীদের ভোট বয়কটের আহ্বান সত্ত্বেও তাদের তালিকাভুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সরকারের তরফে।