পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ আজ টিকাকরণে ১০০ কোটির ((100 crore Vaccination) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করল ভারত। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ দেশব্যাপি এক সফল অভিযানের মাধ্যমে ভারত ১০০ কোটির টিকাকরণ সম্পূর্ণ করে এক মাইফলক অতিক্রম করল। কো-উইন পোর্টাল অনুযায়ী দেশ আজ সকাল ৯.৪৭ নাগাদ এই টিকাকরণ সম্পন্ন করেছে। ভারত কোভিড ভ্যাকসিনেশন অভিযান শুরু করে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে এই টিকাকরণ অভিযান শুরু করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গত ২ ফেব্রুয়ারি করোনার বিরুদ্ধে যারা সামনে থেকে লড়াই করেছেন তাদের টিকা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
এদের মধ্যে ছিল কেন্দ্র ও রাজ্যে পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, হোম গার্ড, বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও দুযোগ মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা, পুরসভা ও কারাগারের কর্মচারীরা, পিআরআই কর্মী ও রাজস্ব বিভাগের কর্মী, রেলওয়ে সুরক্ষা কর্মী ও নিবার্চনী কর্মীরা।
এর পর গত ১ মার্চ থেকে টিকাকরণ অভিযানের বিস্তার ঘটে। ৬০ বয়সী প্রৌঢ়দের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়। এছাড়া ৪৫ বছর বয়সী যে সকল ব্যক্তিদের যারা কোমবির্ডিটি আছে তাদেরও এই টিকাকরণে শামিল করা হয়। এর পর পরবর্তী ক্ষেত্রে গত ১ এপ্রিল থেকে ৪৫ বছরের উর্ধে সমস্ত নাগরিককে টিকা দেওয়া শুরু হয়। ১ মে থেকে ১৮ বছরের উর্ধে সমস্ত ব্যক্তিকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার জন্য টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়।আরও পড়ুন:
বলা যায়, যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবছরের চলতি বছর থেকে আজ সেই কোভিড লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এক কদম আর এগিয়ে গেল ভারত। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সঙ্গে ভারতে সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
এর পরেই করোনা মোকাবিলায় একমাত্র হাতিয়ার যে টিকাকরণ সে কথা জানান বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) বিশেষজ্ঞদের মতামতে শীলমোহর দেয়।আরও পড়ুন:
এরপরেই জরুরি ভিত্তিতে টিকা তৈরিতে লেগে পড়েন গবেষকরা। বছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিকে তৈরি হল কোভ্যাক্সিন (Covaxin)। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় সেরাম ইন্সটিটিউটও তৈরি করল কোভিশিল্ড (Covishield)। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ জনগণই করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়ে গিয়েছেন। বাকি রয়েছেন ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক।
এই সংখ্যাটাই পূরণ করার জন্য মোট ১৯০ কোটি টিকা প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের করোনা টিকা দিতে হয়, তবে দৈনিক ১ কোটি টিকা দিতে হবে। তবে এখনও কেন্দ্রের সামনে বড় লক্ষ্য, ১৮ অনুর্ধ্বদের টিকাকরণ। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্পূর্ণ হয়েছে ট্রায়াল। চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের শুরুতেই শিশুদের টিকাকরণের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। আপাতত অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায়। তাহলেই জোরকদমে শুরু হবে শিশুদের টিকাকরণ।