পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক : মানব মস্তিষ্ক বড়ই অদ্ভূত! মস্তিষ্কে কখন কি খেলা চলে তা বুদ্ধিতে ব্যাখ্যা মেলে না। ফলে অনেক সময় শিক্ষিত মানুষের কাণ্ডকারখানা দেখে অবাক হতে হয়। খুব স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এত শিক্ষিত মানুষ কিভাবে এই কাজ করলেন! সেই রকম একজন হলেন ধনীরাম মিত্তল।
ভারতে অপরাধ জগতে তার নাম কুখ্যাত অপরাধী চার্লস শোভরাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়।আরও পড়ুন:
ধনী রাম মিত্তল একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ। সে একজন আইনের স্নাতক, গ্রাফোলজিস্ট স্পেশালিস্ট ( হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ)। মানুষের জীবনে বড় হওয়ার অনেক লক্ষ্য থাকে, কিন্তু এই ব্যক্তি মানে ধনীরাম মিত্তলের বয়স যখন ২৫, তখন চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে এই ধনী রামের।
আরও পড়ুন:
আর তার কাণ্ডকারখানার সেই তালিকা দেখে চোখ কপালে উঠে যাবে। ১০০০টি গাড়ি চুরির রেকর্ড রয়েছে তার। দিনের আলোতেই গাড়ি চুরি করত সে। তার কাজের এলাকা ছিল দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান সহ আশেপাশের এলাকা। ধনীরামের কীর্তি এখানেই শেষ নয়।
যেহেতু সে হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ, তাই অপরাধ জগতটা আরও কিছুটা সহজ হয়ে গিয়েছিল তার কাছে। একবার ধনী রাম কিছু মিথ্যা নথি তৈরি করে ঝাজ্জার আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারককে দুই মাসের ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়। আরও বড় ঘটনা, মিত্তল নিজেই সেই বিচারকের চেয়ারে বসে ২০০০ জন অপরাধীকে মুক্ত করে দেয়। কর্তৃপক্ষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিত্তল চম্পট দেয়। পরে আবার সেই অপরাধীদের ধরে জেলে ঢোকানো হয়। এই ধরনের নানা ধরনের ফন্দি এঁটে কখনও নিজে জেলের বাইরে, আবার কখন জেলের ভিতরে কাটিয়েছে সে। ধনীরাম মিত্তল এখনও কোথায় তা জানা নেই পুলিশ প্রশাসনের, ফলে তার বেপাত্তা এখনও রহস্য।আরও পড়ুন:
তবে ধনী মিত্তলের কাহিনি শুনলে বোঝা যায়, 'শিক্ষা' যে মানুষকে সব সময় শিক্ষিত, জ্ঞানী করবে এমনটা নয়, তাহলে বিশ্বের ইতিহাসে ঘাঁটলে শিক্ষিত মানুষদের অপরাধীদের তালিকায় দেখা যেত না।