পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পর্ন দেখে একের পর এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুন। অবশেষে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়াল ধর্ষক রবীন্দ্র কুমার। দিল্লির বাসিন্দা সে। পেশায় শ্রমিক। সন্ধ্যার পর বাকি শ্রমিকরা যখন নিজের বাসায় ফিরে যেত, তখন আকণ্ঠ মদ খেয়ে উন্মাদ হয়ে শিশুদের খোঁজে বের হত রবীন্দ্র।  বস্তি এলাকায় নিজের শিকারি খুঁজতে রোজ ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটতো অভিযুক্ত। সামান্য কিছু টাকা ও  লোভনীয়  খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের নিজের কাছে ডাকতো সে।
এরপর শিশু গুলিকে নির্জন বা নির্মীয়মাণ কোনও বিল্ডিংয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের যৌন লালসা মেটাতো। নিজের চাহিদা মিটে গেলে তাদেরকে হত্যা করত রবীন্দ্র।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে ৬ বছরের একটি শিশুকে যৌন হেনস্থা ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়  রবীন্দ্র কুমার। ঘটনার তদন্ত করতে নেমে চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। উঠে আসে অন্য আর এক হৃদয়বিদারক কাহিনী। জানা যায়, ২০০৮ থেকে ২০১৫, এই সাত বছরে যৌন লালসা মেটানোর পর মোট ৩০জন শিশুকে খুন করে সে। অধিকাংশ শিশুর বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

পুলিশের এক জেরায় রবীন্দ্র আরও স্বীকার করেছে যে, প্রথম প্রথম  শিশুদের যৌন হেনস্থা করে পালাত রবীন্দ্র। খুন বা মারধর করত না। কিন্তু একটি খুনের ঘটনার পর পুলিশের নজরে পড়ে যায় সে। তাই, তার পর বেশির ভাগ ‘শিকার’কে খুন করে ফেলত। ভাবত, বেঁচে গেলে যদি পুলিশের হাতে আরও একটা প্রমাণ চলে যায়! তাই মেরে ফেলাই শ্রেয়। এটা এক রকম রুটিন করে ফেলে রবীন্দ্র।

তবে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও, এখনও সাজা শোনায়নি আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সাজা শোনানো হবে বলে সূত্রের খবর।

২০০৮ সালে ১৮ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ থেকে দিল্লিতে আসে সে। তার বাবা ছিল প্লাম্বার। মা দিল্লিতে একাধিক বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত। রাজধানীতে আসার কিছুদিন পর থেকে রবীন্দ্র মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। নিয়মিত দেখতে শুরু করে পর্ন। এই অশ্লীল ছবি দেখার ফলে তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরাধ সংগঠিত করতে একটি ভয়ঙ্কর রুটিন তৈরি করে ফেলে সে।