আহমদ মতিউর রহমান, ঢাকা : বাংলাদেশের আইকন হিসেবে পরিগণিত পদ্মা সেতু আরো একটি সাফল্যের মুখ দেখলো বুধবার। এখন এই সেতুর রেলপথেরও কাজ শেষ  হলো। পদ্মা সেতুতে রেললাইন  ̄ স্থাপনের  কাজ শেষ করা হয়েছে বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে। রেললাইনের ৭ মিটার কংক্রিট ঢালাই করার মধ্য দিয়ে সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পাথরবিহীন রেলপথের নির্মাণকাজ সমাপ্ত  হলো। মঙ্গলবার রাতে সেতুতে সর্বশেষ রেল স্লিপার বসানো হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের  ভাঙ্গা স্টেশন থেকে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হবে। এই সেতু  চালু হলে ঢাকার সাথে যশোর খুলনা যাওয়া যাবে অনেক কম সময়ে যা এত দিন এ অঞ্চলের ২১ টি জেলাবাসীর স্বপ্ন।  সেতু চালুর সাথে সাথে বাস ও কার যোগে যাওয়া আসা করা যাচ্ছে গত বছরের জুন থেকে। এবার রেল

সেতু হবার পর কম খরচে যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন। ঢাকা কলকাতা যাতায়াতও সহজ হবে এবং সময় বাঁচবে সাড়ে তিন ঘন্টা।
পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্প সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় রেল লিংক প্রকল্পের অধীনে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ঠিকাদার চীনের চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিআরইসি)। এই প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই গুলো হচ্ছে ঢাকা

থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা অংশের কাজ শেষ হলো।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের মাওয়া স্টেশন থেকে  ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব রেলপথে ৪২ কিলোমিটার।  এই দূরত্বের মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেললাইন   স্থাপন করা হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সেতুতে রেলপথের একটি স্লিপার বসানো বাকি ছিল। ওই স্লিপার চীন থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যায় তা প্রকল্প এলাকায় আনা হয়।
রাতে স্লিপার সেতুর রেলপথে বসানো হয়। সেতুতে তা বসানোর পর সাত মিটার কংক্রিটের ঢালাই বাকি রাখা হয়। গতকাল  বিকেলে রেল লিংক প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেনের  উপস্থিতিতে ওই ৭ মিটারে ঢালাই দেওয়া হয় । জানা গেছে আগামী সপ্তাহে তিনটি কোচের একটি ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে সেতুতে চালানো হবে। তখন

এ কাজের পরিপূর্ণতা আসবে। পদ্মা সেতুর রেল লিংক  প্রকল্পের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার সাঈদ আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সেতুতে রেললাইনের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে দিয়ে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে। আগামী

৪ এপ্রিল রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভাঙ্গা স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলক ট্রেন মাওয়া স্টেশনে যাবে বলে তিনি জানান।

পদ্মা সেতু বা পদ্মা বহুমুখী সেতু হচ্ছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে।
সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। এই দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে টোল প্রদান করে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুতে আরোহণ করেন এবং এর মাধ্যমে সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। দুই প্রান্তের বিশিষ্ট ইস্পাত ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরেরস্তরে  চার  লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

সেটারই রেল লাইন বসানোর কাজ শেষ হলো। কয়েক মাসের মাধ্যমে  ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশের কাজ শেষ হলে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। যশোর থেকে খুলনা ও  বেনাপোল লাইনে ট্রেন চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে চলাচল উপযোগী করা হলে ট্রেন যাবে কলকাতা পর্যন্ত। বর্তমানে ঢাকা কলকাতা ও খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস রয়েছে। বন্ধন এক্সপ্রেস বা কলকাতা-খুলনা এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে বাংলাদেশের খুলনা শহরের মধ্যে  যাতায়াত করে। ট্রেনটি কলকাতা থেকে দমদম বনগাঁ পেট্রাপোল বেনাপোল ঝিকরগাছা যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত চলাচল করে।