পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: হিংসার মধ্যে সম্প্রীতির ছবি। মিলল নতুন করে বাঁচার আশা। একদিকে যখন দাঙ্গাবাজরা একের পর এক মসজিদে হামলা করছে। আগুন লাগাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে এবার মুসলিমদের পাশে এসে দাঁড়াল শিখরা। নুহ্, গুরগাঁও সহ হরিয়ানার অন্যান্য জেলায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হওয়ার একদিন পরে সোহনা এলাকার একটি মসজিদে ৭০-১০০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল হামলা চালায়।
আরও পড়ুন:
শাহী মসজিদ নামে ওই মসজিদ চত্বরে ছিল একটি মাদ্রাসাও। সেখানে ছোটছোট শিশুরা পড়াশোনা করে। হামলার সময় মাদ্রাসার মধ্যে ওই ইমামও ছিলেন। ছিল খুদে পড়ুয়ারাও।
মসজিদে-মাদ্রাসায় হামলা হতে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিখদের একটি বড় অংশ। তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলায় দাঙ্গাবাজরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা ঘটনাটি তাদের জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ কালিম সেই ভয়ংকর দুঃস্মৃতির কথা বর্ণনা করে বলেন, গত দু’দিন পরিস্থিতি একটু শান্ত হয়ে আসায় আমরা একটু আশ্বস্ত হয়েছিলাম। মাদ্রাসায় নতুন করে পঠন-ফাঠন ও দ্বীনিশিক্ষা শুরু হয়। পড়ুযারাও আসতে শুরু করে। ঘটনার দিন বেলা আড়াইটা নাগাদ আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমি মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলে দেখতে পাই একদল একটা জনতা লাঠি,অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে আমাদের দিকে ছুটে আসছে।
তারা প্রথমে মসজিদে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে।
আমি ও আরও ৩০জন পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসার একটি ঘরে লুকিয়ে পড়ি। আমরা সব আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি আমার ভাইকে মসজিদের পিছনে সমস্ত মহিলা ও শিশুদের নিয়ে যেতে বলেছিলাম। দাঙ্গাবাজরা মসজিদে ভাঙচুর চালানোর পর মাদ্রাসার কাছাকাছি চলে এসেছিল। সেইসময় সেখানে চলে আসে শিখদের একটি বড় টিম। তারা রুখে দাঁড়ায় দাঙ্গাবাজদের সামনে।আরও পড়ুন:
প্রায় সঙ্গেসঙ্গে চলে আসে পুলিশও। তারাই আমাদেরকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকারী শিখদের দলে থাকা একজন হলেন গুড্ডু সিং (২৫)। তিনি জানান, আমরা সোহনা মসজিদের আশেপাশের স্থানীয়দের কাছ থেকে হামলার খবর পাই।
সঙ্গেসঙ্গে ছুটে আসি। আমরা জানতে পেরেছিলাম সেখানে শিশুরাও ছিল। এই খবর পাওয়ার আমরা আর এক মুহূর্তও দেরি করিনি। আমরা পৌঁছে দেখতে পাই মসজিদের বাইরে তখন শতাধিক উন্মত্ত লোকজন।আরও পড়ুন:
তারা মসজিদের ভিতরে ভাঙচুর করার পর মাদ্রাসার দিকে এগোচ্ছিল। আমরা বাধা দিই। পাশাপাশি, আমাদের একদল লোক মাদ্রাসার মধ্যে ঢুকে ইমাম ও শিশুদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশও চলে আসে। আমাদের দলে দলে আসতে দেখে দাঙ্গাবাজরা পালিয়ে যায়। আর এক উদ্ধারকারী নভজ্যোৎ সিং জানান, আমরা এখানে সবাই মিলেমিশে থাকি। এখানে কোনও অশান্তি চাই না। মুসলিমদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট ভালবাসা রয়েছে।