পুবের কলম প্রতিবেদকঃ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন রাজ্যের প্রায় ষাট লক্ষ বাসিন্দা। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
নবান্নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ছয় বছরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে দুই কোটি তেতাল্লিশ লক্ষ পরিবার বিশেষ ভাবে উপকৃত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গত ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ওই প্রকল্পে রাজ্য সরকার খরচ করেছে নয় হাজার কোটি টাকা।সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অর্থবছর থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে রাজ্য সরকার আরও খরচ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।
এর ফলে প্রতি মাসে বাড়তি খরচ করা হচ্ছে ১০-১৫ কোটি টাকা।২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে প্রতি মাসে রাজ্যের দেড় লক্ষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিল পরিশোধ করতো রাজ্য সরকার। বর্তমানে স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই খাতে রাজ্য সরকারের বার্ষিক খরচ আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্যে চালু হয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প।স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে শুধুমাত্র ‘ক্যানসার কেয়ার’ পরিষেবায় রাজ্য সরকার খরচ করেছে দেড় হাজার কোটি টাকা।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বাসিন্দারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে একাধিক রোগের চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায় বেসরকারি হাসপাতালে।যদি কোনো বেসরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের রেজিষ্ট্রেশন এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পান রাজ্যের বাসিন্দারা। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য জুড়ে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি পালন করা হবে।ওই কর্মসূচির মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আবেদন জানাতে পারবেন রাজ্যের বাসিন্দারা।