সেখ কুতুবউদ্দিন : শিক্ষারত্ন পুরস্কার পেলেন সমাজসেবি ও শিক্ষানুরাগী ড. আবুল হোসেন বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে তাঁকে শিক্ষারত্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের চাঁদপুর গ্রামে প্রাথমিকের পাঠ শেষ করে জিৎপুর পাল প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন আবুল হোসেন।
আরও পড়ুন:
নওদা থানার আমতলা হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কেএন কলেজে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন। এক বছর পর তিনি পুনরায় স্নাতকের ইংরেজি অনার্সে রবীন্দ্রভারতীতে ভর্তি হয়ে স্নাতক পাশ করেন। এখান থেকেই ১৯৯৬ সালে এমএ প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর বিএড ডিগ্রি অর্জন তাঁর।
এর পর ভাস্কর কলেজে আংশিক সময়ে অধ্যাপনাও করেন তিনি। পরে নদিয়ার বেলতলা (এইচএস) হাই মাদ্রাসায় সহ-শিক্ষক হিসেবে যোগদান তাঁর।আরও পড়ুন:
বর্তমানে ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এদিকে, ২০১৫ সালে কাজী নজরুলকে নিয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট অর্জন করেন। পাশাপাশি তাঁর একাধিক বইও রয়েছে। এগুলির মধ্যে ‘ স্পোকেন ইংলিশ বিগিনার্স কোর্স’, দ্য সেকুলার ভিষণ অব কাজী নজরুল ইসলাম’। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ‘নজরুল স্মারক পুরস্কার’, ‘জি০২৪ ঘন্টা পুরস্কার’ এবং এবছরের ‘শিক্ষারত্ন পুরস্কার’।
আরও পড়ুন:
শিক্ষকতার সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারে তাঁর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান সহ বেশ কয়েকটি জেলায় বিএড, ডিএলএড, নার্সিং, ফার্মাসি কলেজ ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মুখ্যউপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে আসছেন। এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজে অনন্য স্থান অধিকার করেছেন ড. আবুল হোসেন।
আরও পড়ুন:
এছাড়া সমাজসেবার নানা কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। দুস্থ পরিবারের পড়ুয়াদের বই কিনে দেওয়া, পড়ুয়াদের ভর্তি করানো, আর্থিক সহায়তা, দুস্থ পরিবারের মেয়েদের বিবাহে সহায়তা প্রদান, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য সমাজে প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন আবুল হোসেন।
আরও পড়ুন:
শিক্ষকতা, সমাজসেবার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি, কৃষ্ণনগর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। এছাড়া কৃষ্ণনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর ( ট্যাক্স ল্যান্ড লাইসেন্স) পদের রয়েছেন।
মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত পিছিয়েপড়া এলাকার পড়ুয়াদের জন্য প্রফেশনাল কোর্স চালু করে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে চাকুরিমুখী করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন:
এছাড়া কাজী নজরুলকে নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার বিভিন্ন কমিটিতেও ভাল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এই জন্য তাঁকে শিক্ষারত্ন প্রদান করে শিক্ষা দফতর। এই পুরস্কার পেয়ে তিনি ও তাঁর ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকশিক্ষিকারাও আনন্দিত। আবুল হোসেন বলেন, এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছি। এতে আলাদা অনুভুতি হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দফতর সহ মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই’। আগামীতে আরও বেশি মানুষের পাশে থাকতে চান বর্তমানে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ড. আবুল হোসেন।