পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: নয়ডায় পাকিস্তানি সীমা হায়দার ও শচীনের মতো উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের জুলি ফেসবুকে প্রেমে পড়েন মোরাদাবাদের অজয় সাইনির। কিন্তু জুলির প্রেমে পড়ে প্রেমিক অজয়কে এভাবে রক্তাক্ত হতে হবে, তা কল্পনাতেও আসেনি অজয়ের পরিজনদের। মাস তিনেক আগে জুলি মোরাদাবাদের অজয়ের বাড়িতে আসেন এবং হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিক অজয়কে বিয়েও করেন।

কিছুদিন মোরাদাবাদে থাকার পর জুলি ভিসার মেয়াদ রিনিউ করার জন্য বাংলাদেশে যাওয়ার কথা বলেন তাঁর শাশুড়িকে। তাঁর সঙ্গে অজয়কেও নিয়ে যাবেন বলে জানান শাশুড়িকে।

কিন্তু অজয়ের পাসপোর্ট-ভিসা কিছুই ছিল না।
তা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে যান তাঁরা। বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর জুলির আসল চেহারা সামনে আসে। জুলি তাঁর শাশুড়িকে অজয়ের রক্তে ভেজা ছবি পাঠিয়েছেন। ছেলের হাল দেখে শিউরে ওঠেন মা সুনীতা দেবী। ভয়ে মোরাদাবাদের পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। অজয়ের মায়ের অভিযোগ পেয়ে মোরাদাবাদ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অজয়ের মা এসএসপির কাছে আবেদন করেছেন, তাঁর ছেলেকে যেন বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে পুলিশ।
অজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পেরেছে ঢাকার গাজীপুরে স্ত্রী জুলির সঙ্গেই রয়েছেন তিনি। তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তিন মাস পর দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু অজয় কোন পরিস্থিতিতে এমন কথা বলছেন। আদৌ তিনি সত্যি বলছেন কিনা তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

বাংলাদেশি জুলি তাঁর ১১ বছর বয়সি মেয়ে হালিমাকে নিয়ে ৩ মাস আগে মোরাদাবাদে আসেন এবং কিছুদিন থাকার পর হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন। হিন্দু  রীতি-নীতি মেনে অজয়কে বিয়েও করেন তিনি। অজয়ের মা সুনীতা জানান, বাংলাদেশি জুলি তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়াতে মোরাদাবাদ ছেড়ে বাংলাদেশে যান এবং ছেলে অজয়ও তার সঙ্গে যায়।
কিন্তু কয়েকদিন পর অজয় ফোন করে জানায় যে সে ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। অভিযোগকারী সুনীতা দেবী বলেন, তাঁর ছেলে অজয় কিছুদিন আগে ফোন করে জানায় যে সে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসবে। কিন্তু কিছুদিন পর, আবার অজয়ের ফোন আসে আমার কাছে এবং অজয় আমার কাছ থেকে টাকা চায়, আর কিছু বলে ওঠার আগেই ফোন কেটে যায়। দু’মাস কেটে গেলেও ছেলে ফিরে আসেনি। এরপর ওই একই নম্বর থেকে আমার মোবাইলে রক্তে ভেজা আমার ছেলের একটি ছবি পাঠানো হয়। পুলিশের কাছে ছেলের মঙ্গল চেয়ে মায়ের কাতর আর্জি, জুলি ও তাঁর অন্যান্য সঙ্গীরা যেন আমার ছেলের সঙ্গে অপ্রীতিকর কিছু না করে। দয়া করে আমার ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনুন এবং তাকে সাহায্য করুন।