পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: আফগানিস্তানের সব  রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল তালিবান সরকার। তালিবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কার্যকর শরিয়াহ আইনের পরিপন্থী হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিবান সরকারের অন্তর্বর্তী বিচারমন্ত্রী শেখ মৌলভী  আবদুল হাকিম শারায়ে কাবুলে তার দফতর  থেকে বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। কারণ শরিয়াহ আইনে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনও বৈধ অবস্থান ও স্বীকৃতি নেই।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নেই।
এমনকি নাগরিকরাও এসব দলের কার্যক্রম পছন্দ করে না।’ তালিবানের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে সমালোচনা করছেন, আবার অনেকে বলছেন, এর মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। অনেকগুলি রাজনৈতিক দল থাকলে দেশে ক্ষমতার লড়াই দেখা দেয়। ফলে শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট। সেই কারণেই তালিবানের এই সিদ্ধান্ত বলে মত অনেকের।
আবার অনেকে বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদেশি প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করল তালিবান। এখন কোনও পশ্চিমা দেশের সরকার তালিবানের বিরুদ্ধে গিয়ে আফগানিস্তানের কোনও দলকে ‘পুতুল’ বানাতে পারবে না বা কাবুলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, দুই দশকের যুদ্ধ শেষে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারের পর  ঘানি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালিবান। এখনও পর্যন্ত কোনও দেশই তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের একদিন পর রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করল তালিবান সরকার।