ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর নির্দেশকে ঘিরে আমেরিকায়  নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দেওয়া ওই নির্দেশ অমান্য করেছেন দেশটির এক ডজন সামরিক কর্মকর্তা। এর ফলে হোয়াইট হাউস ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান   উত্তেজনার মধ্যেই জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে এটি অন্যতম বড় ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা। জেনারেলদের এই অস্বীকৃতি ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি পদক্ষেপ কিনা, নাকি এটি সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের জন্য হুমকি—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।
ইরানে সামরিক অভিযান সমর্থনকারীরা বলছেন, সামরিক কৌশল নির্ধারণে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। তাদের মতে, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা কমান্ড কাঠামোর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে, নির্দেশটির বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এমন পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে শীর্ষ জেনারেলদের আপত্তি একটি প্রয়োজনীয় ভারসাম্য হিসেবে কাজ করছে। অভিজ্ঞ সামরিক কৌশলবিদদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বর্তমানে পেন্টাগনে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের পদ কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক অভিযানের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।