পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: একদিকে নিজের গত পনেরো বছরের কাজের বিস্তারিত খতিয়ান, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো। শনিবার দমদমে নির্বাচনী প্রচারে এই দ্বৈত কৌশলই নিলেন তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। দক্ষিণ দমদমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘সমাধান ভবন’-এ এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভেঙে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে ব্রাত্য বলেন, "কীভাবে সাংবিধানিক বডিগুলোকে ভেঙেচুরে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি পার্টি অফিস কীভাবে এক করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য যে কনস্টিটিউশনাল বডি আছে সেগুলোকে ভেঙেচুরে দিতে হবে এবং সেটাকে বিজেপির তলায় লীন করে দিতে হবে।"
 

দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক।

এই সময়ে তাঁর হাত ধরে দমদমে কী কী কাজ হয়েছে, এদিন তার লম্বা তালিকা তুলে ধরেন ব্রাত্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি করে তিনি বলেন, "দক্ষিণ দমদমের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায়... সেই স্কুলটা আমরা ইন্টিগ্রেটেড সরকারি স্কুল করতে পেরেছি... যে অনুন্নত এলাকায় ছেলেমেয়েদের ড্রপআউট রেট খুবই বেশি ছিল, সেটা এখন মানে প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই এখন পড়াশোনার একটা খুব চল দেখা যাচ্ছে।" স্কুল বন্ধ হওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, "কেউ কেউ দেখলাম গণমাধ্যমে বলছেন যে, কোনো কোনো স্কুল নাকি বন্ধ হয়ে গেছে, এটা সর্বৈব মিথ্যা... প্রত্যেক স্কুলেই দেখতে পাবেন যে, আমরা ইতিমধ্যেই সব স্কুলে দুটো করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি পাঠিয়েছি।" স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর মন্তব্য, "আমার এলাকায় একটি মাতৃসদন... সেখানে একটা চমৎকার হাসপাতাল তৈরি করতে আমরা সেটাকে রেনোভেট করেছি। আর আমাদের সাউথ দমদম মিউনিসিপ্যালিটি হসপিটালে সেখানে প্রচুর আমরা মেশিন দিয়েছি, যার ফলে এটা প্রায় একটা আধুনিক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে।"
 
রাস্তাঘাট এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির কথাও উঠে আসে ব্রাত্যর কথায়।
তিনি জানান, ভারী বৃষ্টিতে এখন আর দমদম দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে না। তাঁর কথায়, "দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই জল নেমে যায় এবং নিকাশি ব্যবস্থার একটা সংস্কার করা হয়েছে। বাগজোলা খালের পরিষ্কার এবং সংস্কারের কাজ আমরা খুবই এখানে ভালো করে করতে পেরেছি।" আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে যানজট নিরসনে জোড়া উড়ালপুলের প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল প্রার্থী। ব্রাত্য জানান, "মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বাজেটে বরাদ্দ দিয়েছেন... একটা হচ্ছে যে, এইচএমভির সামনে থেকে একটা ফ্লাইওভার, যেটা গিয়ে নামবে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে... আরেকটি ফ্লাইওভার, যেটা ডায়মন্ড প্লাজার সামনে থেকে... সরোজিনী নাইডু কলেজ অব্দি।"
 
উন্নয়নের পাশাপাশি এদিন ব্রাত্যর নিশানায় ছিল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রসঙ্গে বিজেপিকে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, "আপনার ভোট দিতে না পারলে আপনি সামনের বার নাগরিক নন... এই যে ভীতিটা তৈরি করে দিয়েছে মানুষের মধ্যে, অর্থাৎ এসআইআর-এর সঙ্গে সিএএ-কে সুকৌশলে জুড়ে দেওয়া... একটা ভয় দেখিয়ে মানুষকে প্রায় গানপয়েন্টে বন্দুক নিয়ে গিয়ে ভোট দেওয়াতে বাধ্য করা, এটা নিশ্চয়ই মানুষ দেখছেন।" কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে তাঁর শ্লেষাত্মক মন্তব্য, "ইডি, সিবিআই,ৎ এনআইএ, ইনকাম ট্যাক্স, নির্বাচন কমিশন সব এসে এখানে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। পশ্চিমবঙ্গে যে এখনো ট্যাঙ্ক ঘুরে বেড়াচ্ছে না, যুদ্ধের ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি... এটা আমাদের অনেক ভাগ্য।"
 
দমদমে ধর্মের মেরুকরণের কোনো স্থান নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ব্রাত্য। তাঁর কথায়, "যারা ধর্মের মেরুকরণ করতে চাইছেন তাদের বলুন, এখান থেকে আমরা এখন শীতলা পুজোয় পান্তা ভাত খেতে যাব... বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভুল প্রচার, সাম্প্রদায়িক প্রচার না করে আসুন এই শীতলা পুজোয় অংশগ্রহণ করুন।" পাশাপাশি, সংখ্যালঘু ভোট কাটতে আসরে নামা মিম-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। ব্রাত্যর হুঁশিয়ারি, "এই মিম কাদের হয়ে ভোট কাটুয়ার কাজ করে গোটা ভারতবর্ষ জানে... মিমকে এই ভোটে মানুষ হিমঘরে পাঠিয়ে দেবে।" আগামী ৮ তারিখ মনোনয়ন পেশ এবং ১১ তারিখ মহামিছিলের মাধ্যমে প্রচারের ঝড় তুলতে প্রস্তুত ঘাসফুল শিবির। দীর্ঘ ১৫ বছরের বিধায়কের প্রতি মানুষের কোনো ক্লান্তি এসেছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে আত্মবিশ্বাসী ব্রাত্যর জবাব, "আমি ১৫ বছরে এই এলাকায় বসেছি, ১৫ বছর এখানে কাজ করেছি... আমি দলনেত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে, আমি আবার যা প্রচার করার আমি করব... আর তারপর তো ফাইনালি মানুষ ডিসাইড করবেন।"