পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির মঞ্চে ফের শোরগোল। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দেশটির প্রথম হিজাব পরা মুসলিম সিনেটর ফাতিমা পায়মান। এক সরকারি অনুষ্ঠানে এক পুরুষ সহকর্মীর অশালীন মন্তব্যের শিকার হন তিনি। যা তাঁর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে অসম্মান করে। অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি বহুজাতিক ও মুক্তচিন্তার দেশে এমন ঘটনা দেখায় নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য এখনও রাজনীতি পুরোপুরি নিরাপদ নয়; এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে। ফাতিমা জানিয়েছেন, এক পুরুষ সহকর্মী ওই সময় অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন, তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘চলো তোমায় একটু ওয়াইন খাওয়াই, তারপর দেখি তুমি টেবিলের উপর কেমন নাচ দেখাও।’
আরও পড়ুন:
এই ধরনের অশালীন মন্তব্যে হতবাক হয়ে যান ফাতিমা। তিনি জানান, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিই; এই আচরণের আমি ঘোর বিরোধী। এরপর আমি আর দেরি করিনি, সরাসরি সংসদীয় নজরদারি সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়ের করি।
’আরও পড়ুন:
ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে বা ওই সহকর্মী কে; সে বিষয়ে ফাতিমা বিস্তারিত কিছু না বললেও বিষয়টি ইতিমধ্যেই আলোড়ন তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক মহলে। উল্লেখযোগ্য যে, ফাতিমা পায়মান নিজে একজন অভিবাসী, আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ায় এসে বড় হয়েছেন। তিনি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে নির্বাচিত হন এবং তিনিই প্রথম নারী যিনি হিজাব পরে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে বসেন।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করে স্বাধীন (ইন্ডিপেনডেন্ট) হিসেবে কাজ শুরু করেন। গাজা সংকট ইস্যুতে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ‘নিষ্ক্রিয় এবং মানবিকতা-বর্জিত’ অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখর হন তিনি।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনাটি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ২০২১ সালের সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী অভিযোগ, যেখানে ব্রিটানি হিগিন্স নামে এক প্রাক্তন রাজনৈতিক স্টাফার দাবি করেন; তাঁকে পার্লামেন্ট হাউসের ভিতরে এক সহকর্মী ধর্ষণ করেছিল। সেই ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
একজন সংখ্যালঘু, মুসলিম নারী হিসেবে ফাতিমা যে সাহসিকতার সঙ্গে মুখ খুলেছেন; তা ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তরফে প্রশংসিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে প্রশ্ন উঠছে; এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হবে কি? অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের জন্য সত্যিই নিরাপদ পরিসর আছে তো? উত্তর খুঁজছে গোটা দেশ।