ঢাকা: বাংলাদেশের অন্তর্র্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে নতুন৩ জন যুক্ত হয়েছেন রবিবার। বঙ্গভবনে এদিন সন্ধ্যায় তিন জন শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন ব্যবসায়ী শেখ বশির উদ্দিন, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম। ফারুকী বাংলাদেশি অভিনেত্রী নুসরত ইমরোজ তিশার স্বামী। তিশার অভিনয় দুই বাংলার মানুষের নজর কেড়েছে। আর ফারুকীর সিনেমা বিশ্বনন্দিত। কয়েক দশক ধরে তিনি চলচ্চিত্র, নাটক নির্মাণ করে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে মাহফুজ আলমকে ছাত্র আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে ধরা হয়। তিনি ছাত্র সমন্বয়কদের তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মোস্তফা সরয়ার বরাবরই ফ্যাসিবাদী আওয়ামি লিগ ও হাসিনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের কাজের সমালোচনা করেছেন। ফারুকীর বক্তব্য, অনেকে আশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের উপলব্ধি হবে। তারা অনুশোচনায় ভুগবে, বিচার পর্ব পার হয়ে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসবে মানুষের সামনে। আর ওদিকে আওয়ামী লীগ আশা করছে বাংলাদেশের মানুষের উপলব্ধি হবে যে তাদের আমাদের কতোটা দরকার। তারা কল্পনায় দেখতে পাচ্ছে আমরা তাদের মিস করছি। কি বিস্ময়কর!আরও পড়ুন:
Read More: হাসিনাকে ধরতে জারি হচ্ছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
আরও পড়ুন:
তিনি পলাতক হাসিনার কুকীর্তির কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘জুলাইয়ে হাজারের বেশি তরুণ-কিশোর-ছাত্র-ছাত্রীকে খুন করেছে। আরো কয়েক হাজার খুন করার দরকার?
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় নিজের ক্যাশিয়ার মারফত ব্যাঙ্ক লুট করে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে, যেটাকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক ডাকাতি বলা হচ্ছে। আরো দশটা ব্যাঙ্ক লুটের জন্য হাসিনা সরকার দরকার? মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা চুরির জন্য দরকার? এক যুগের বেশি সময় ধরে শত শত মানুষকে গুম করেছে। আরো কয়েক হাজার গুম করার জন্য দরকার? আরেকটা বিডিআর কার্নেজের জন্য দরকার?’ এভাবেই আওয়ামি শাসনের অপকীর্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিনেমানির্মাতা। ১৯৯৮ সালে ফারুকী নির্মিত ‘ওয়েটিং রুম’ মুক্তি পায়। আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে ‘ব্যাচেলর’, ‘টেলিভিশন’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘ডুব’, পিঁপড়াবিদ্যা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন ফারুকী। ‘ডুব’, ইংরেজিতে ‘নো বেড অব রোজেস’ সিনেমাটি বাংলাদেশ থেকে অস্কার প্রতিযোগিতায় গিয়েছিল। এতে অভিনয় করেছিলেন বলিউডের ইরফান খান, তিশা।আরও পড়ুন:
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই এই আন্দোলনের পক্ষে সরব ছিলেন ফারুকী। ফেসবুকে প্রতিদিনের নানা ঘটনা নিয়ে অকপটে নিজের মতো জানিয়েছেন। অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরও সমসাময়িক নানা বিষয়ে অন্তর্জালে সরব ছিলেন এই নির্মাতা। উপদেষ্টা হওয়ায় বহু তারকা, পরিচালক ফারুকীকে অভিন¨ন জানান। বঙ্গভবনে শপথ নিতে কালো রঙের পাঞ্জাবি, পায়জামা আর ক্যাপ পরে গিয়েছিলেন ফারুকী। সঙ্গে তিশাও ছিলেন। দাম্পত্য সঙ্গী ফারুকীর ভিডিয়ো পোস্ট করে তিশা লিখেছেন, ‘নতুন পথচলার জন্য তোমাকে অভিনন্দন। আলহামদুলিল্লাহ।’