পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙরগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে। সমুদ্রে ফেলে দেওয়া বস্তাভর্তি কোকেন খেয়ে নেশাগ্রস্ত ও উদভ্রান্তের মতো টালমাটালভাবে ঘোরাফেরা করছে। মাদক চোরাচালানকারীদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়া কোকেন সামুদ্রিক প্রাণীর উপর কীভাবে প্রভাব রাখছে তা নিয়ে কাজ করেছেন ফ্লোরিডার মোটে মেরিন ল্যাবরেটরির গবেষক ট্রেসি ফানারা এবং তার দল। ছয় দিন ধরে ফ্লোরিডার দক্ষিণ প্রান্তে দ্বীপের চারপাশে হাঙর পর্যবেক্ষণ করার পর গবেষকরা দেখতে পান যে বিশালাকার এই মাছগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে।
সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা হ্যামারহেড হাঙরকে কোকেন খাওয়ার পরে মানুষের দিকে তেড়ে আসতে দেখা গেছে। আবার নেশাগ্রস্ত একটি স্যান্ডবার হাঙর একটি কাল্পনিক শিকারকে ঘিরে অনেকক্ষণ সাঁতরাতে দেখা গেছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে, গবেষকরা হাঙরের আচরণ আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কোকেনের বস্তার মতো ব্যাগে মাছের খাবার সমুদ্রে ফেলে দেন। দেখা যায় হাঙরগুলো সেই বস্তা খাওয়ার জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
এদিকে, নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সমুদ্রে হাঙরের সংখ্যা ৭১ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে। বিজ্ঞানবিষয়ক এই সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গ্রিনল্যান্ড হাঙর, যার গড় জীবনকাল ২৭২ বছর কিন্তু ৪০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে সক্ষম, সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলগুলো ফ্লোরিডার উপকূলের পানিতে কোকেনের বস্তা ফেলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের একটি অপরিহার্য অংশ হাঙরের আচরণ প্রভাবিত করায় উদ্বেগ জানানো হয়। বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন রক্ষা করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য জরুরিভিত্তিতে এই ধরনের কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।