স্বঘোষিত  গো-রক্ষকরা এক যুবককে মারধর ও তাড়া করার পর তিনি একটি খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন—এই অভিযোগের জেরে সোম ও মঙ্গলবার জম্মুর রামবান জেলায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়ক অবরোধ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একদিনের বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো সত্ত্বেও ওই যুবকের কোন খোঁজ মেলেনি। প্রশাসন একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হতে বাধা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়ে।

যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। রামবান জম্মু অঞ্চলের একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা।
স্থানীয়রা জানান, মুন্ডখাল পোগালের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ একটি গাড়িতে করে একটি গরু ও দুটি বাছুর নিয়ে যাওয়ার সময় স্বঘোষিত রক্ষীবাহিনী তার ওপর হামলা করে। তারা বলেন, হয় তাকে খুন  করে চেনাব নদীর উপনদী নালা বিশলারিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, অথবা তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এনসি বিধায়ক সাজ্জাদ শাহীন বলেন, আহমদ জীবন বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন নাকি তাকে খুন  করা হয়েছে, তা পুলিশ তদন্ত করছে। "আমরা কৃষক এবং গরু পালন করে ও তার দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। শান্তি বিঘ্নিত করতে চায় এমন কিছু দুষ্কৃতকারী এর সঙ্গে জড়িত।"তিনি আরো বলেন,"মুসলিম ও হিন্দু উভয়ই এই ঘটনার নিন্দা করছেন।
আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য পেয়েছি... আমি জনগণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ করছি," । রামবানের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অরুণ গুপ্তা বলেছেন, মামলাটি তদন্তের জন্য বানিহালের মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

বাসিন্দারা জানান, "গো-রক্ষকদের জন্য গবাদি পশু পালনে নিযুক্ত যাযাবরদের হয়রানি করা একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ কখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। দিগদোলে এটা নিয়মিতই ঘটে। চালকদের নির্যাতন করা হয়, কিন্তু আগের ঘটনাগুলোতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,এই ঘটনায় আমরা যা জানতে পারছি তা হল, তাকে ধাওয়া করার আগে তারা তার গাড়িতে পাথর ছুড়েছিল । "