পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী 'বোকো হারাম'-এর ডেরা লক্ষ্য করে নাইজেরিয়া সেনাবাহিনীর চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বোরনো এবং ইয়োবে প্রদেশের সীমান্ত সংলগ্ন জিল্লি গ্রামের একটি স্থানীয় বাজারে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, এই হামলায় নিহতদের সিংহভাগই সাধারণ নিরীহ গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ী।
 
নাইজেরিয়া সেনা সূত্রে খবর, গোয়েন্দা মারফত তারা জানতে পেরেছিল যে জিল্লি গ্রামের ওই জনবহুল বাজারে বোকো হারামের সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে।

এই খবর পাওয়ার পরপরই বায়ুসেনার বিমান ওই এলাকায় জোরালো হানা দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় সন্ত্রাসবাদীদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মৃতরা সকলেই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্য।
 
সেনাবাহিনী সাফল্যের দাবি করলেও, রবিবারের এক বিবৃতিতে ভিন্ন তথ্য সামনে এনেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় মৃত ও আহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় বাজার যখন ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাসা ছিল, ঠিক তখনই আকাশপথে বোমা বর্ষণ শুরু হয়। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিরীহ নাগরিকই বেশি।
 
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আচমকা এই হামলায় বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাংশও স্বীকার করেছে, সন্ত্রাস দমনের নামে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এদিকে বোকো হারাম দমনে নাইজেরিয়া সেনা নিয়মিত অভিযান চালালেও, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের অভাবে বারবার সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।